এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বন্দর এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।৩১ জানুয়ারী শনিবার (রাত সাড়ে ১১টা) গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।এর আগে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হলে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইভাবে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল সিএমপি।বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে শনিবার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘণ্টার কর্মবিরতিতে দিনভর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) রোববার বেলা ১১টায় বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে।এমন পরিস্থিতিতে সিএমপি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বন্দর এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা করলে যানজট সৃষ্টি হয় এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।এ কারণে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেইট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও ব্যবহার এবং যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন কার্গো বার্থ, সিসিটি ও এনসিটিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে জাহাজের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খোকন বলেন, “সকাল থেকেই বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনো কাজ করছেন না। বন্দরের কোনো যন্ত্রপাতিও চালু হয়নি।”

