সোহেল রানা,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি >>> রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে জমে উঠেছে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। ইতোমধ্যে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে, দুই প্রার্থী দিনরাত এলাকায় গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক অবস্থায় জামায়াত প্রার্থীর তুলনায় বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দিন কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। তিনি ছিলেন বর্তমান বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিনের বড় ভাই। ব্যারিস্টার আমিনুল হক ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী ও পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০১৮ সালে তিনি সর্বশেষ নির্বাচন করেন। ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দলীয় হাল ধরেন তাঁর ছোট ভাই শরীফ উদ্দিন। এরপর থেকেই তিনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ থাকলেও এবার ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা উন্নয়ন ও মানবিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগ্রহী। তৃণমূল পর্যায়ের ভোটাররা মনে করছেন, প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শরীফ উদ্দিনই উপযুক্ত প্রার্থী। দলীয় নেতারা বলছেন, প্রচারণা করতে গিয়ে তারা ইঙ্গিত পাচ্ছেন ভোটের মাঠে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে। উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, আসন্ন নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হলেও তারা আশাবাদী। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাই ভোটারদের কাছে গিয়ে সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর একটি অংশ গ্রহণ মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি লড়াই হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছেন।

