” মুকুল রাজ “
ইতিহাস ঐশ্বর্যে ভরপুর,
আমার পরিচয় উলিপুর।
এখানেই বাজে ভাওয়াইর সুর,
মোদের সবার সাথে সর্ম্পক মধুর।
নদী আর মাঠে আঁকা প্রকৃতির ছবি,
আমাদের উলিপুরে শান্তি বইছে সবি।
ব্রহ্মপুত্র বয় যে গরিমায় ভরা,
তিস্তার স্রোতে কখনো হতে হয় বাস্তুহারা ।
ঘাঘট, ধরলা মিলে নদীর আলাপ,
চরের বুকে জ্বলে কৃষকের স্বপ্নরূপ চাপ।
ধানক্ষেত, পাটক্ষেত সবুজের গান,
শস্যে ভরে ওঠে কৃষকের প্রাণ।
গরু-ছাগল চরায় মাঠের কিনারে,
কৃষি জীবন হাসে মাটির আদরে।
শীতে অতিথি পাখি ডাকে দলে দলে,
বক, পানকৌড়ি উড়ে নদীর জলে।
গোধূলি বেলায় ভেসে আসে বাঁশির সুর,
মাটির গন্ধে ভরে ওঠে আমার উলিপুর।
চন্ডী মন্দির বলে ইতিহাসের কথা,
দোলমঞ্চে জাগে পুরাকালের ব্যথা।
মুন্সিবাড়ীর প্রাচীন দালান,
শিল্প,সংস্কৃতিতে রেখেছে অম্লান,
শিল্প-সংস্কৃতির চিরন্তন গান।
কাজীর মসজিদ দাঁড়িয়ে অমলিন,
ইসলামের আলো ছড়ায় দিনরাত দিন।
উলিপুরেই দাঁড়িয়ে গোবিন্দ জীউ মন্দির,
উৎসবে হিন্দু-মুসলিম মিলনে হয় অনেক মানুষের ভিড়।
উলিপুরের মসজিদে ধ্বনিত আজান,
গোবিন্দ মন্দিরে বাজে কীর্তনের গান।
একই আকাশতলে মিলনখানি,
ধর্মের বন্ধনে ভ্রাতৃত্ব জানি।
উলিপুরের বুকে গৌরবের দান,
স্বর্ণময়ী স্কুল এন্ড কলেজ জ্ঞানের প্রাণ।
তিস্তার তীরে স্নিগ্ধ বাতাস,
দাড়িয়ে আছে কদমতলার সেই স্মৃতিময় কদম গাছ।
ছায়ায় বেজে ওঠে গান,
শিক্ষাই শক্তি,শিক্ষাই প্রাণ।
আজ শত স্বপ্ন জাগে প্রতিটি ঘরে,
উলিপুরকে আলোকিত করে শিক্ষার অন্ধকারে।
মানুষ এখানে অতিথিপরায়ণ,
দুঃখে-সুখে সবাই ভ্রাতৃত্ব সায়ন।
হাটে-বাজারে ভিড় জমে প্রভাতে,
ক্রয়-বিক্রয়ে সবার মিলনমেলা রাতে।
বর্ষায় নদীর ঢেউ বাড়ে বেগে,
নৌকার সারি ভেসে চলে আনন্দ রঙ্গে।
চরাঞ্চলে ভাসে শস্যের সুবাস,
প্রকৃতির কোলে শান্তির আভাস।
বিদ্যালয়ের উঠোনে বাজে বালকের গান,
স্বপ্ন দেখে গড়বে নতুন প্রাণ।
হাসি-কান্না মিলে গাঁয়ের জীবন,
সরলতায় ভরা মানুষের মন।
এমনই উলিপুর — প্রাণের ঠিকানা,
বাংলার বুকে এ আমার গর্বখানা।
প্রকৃতি, ইতিহাস, মানুষের হৃদয়,
আমাদের উলিপুরে সব মিলেছে সদয়।