আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের স্লোগান ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। একই সঙ্গে দ্রুত তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
জানা যায়, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) উপজেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬-এর একটি অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ওই স্লোগান সংবলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং স্থানীয় ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) অভিযুক্ত আশীষ বরণ দেবসহ উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে ‘ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসরদের’ চিহ্নিত করে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ছাত্ররা। মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল আজিজ শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“এই বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষ্যে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন একটি লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। এতে বলা হয়—
“অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপজেলা প্রশাসনের নাম থাকলেও সেটি উপজেলা প্রশাসন তৈরি করেনি। ব্যানারসহ সার্বিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। ব্যানারের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে কোনো নমুনা দেখানো হয়নি কিংবা অবহিত করা হয়নি। তাছাড়া ওইদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাননীয় মুখ্য সচিবের সফর থাকায় ইউএনও ও এসিল্যান্ড প্রটোকল ডিউটিতে ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।” ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়,
“একাডেমিক সুপারভাইজারের একটি পূর্ববর্তী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দুই দিন আগেই উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে শোকজ করা হয়েছে। বর্তমান বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব ঘটনার জন্য সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে সাতকানিয়ায় শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।