মোঃ দিদারুল ইসলাম,চট্টগ্রাম >>> ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের ঋণ, ব্যাংক দায়, বীমা সংক্রান্ত তথ্য এবং সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া বিলের হিসাব জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।আগামী ২ জানুয়ারী শুক্রবার থেকে মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম শুরুর আগে এসব তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে মঙ্গলবার ব্যাংক, বীমা ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়।চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী ২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হবে।তিনি বলেন, “মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের দাখিল করা আর্থিক বিবরণীর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীরাও তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বাছাইয়ের দিন উপস্থিত থাকবেন।”ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪, ৫ এবং ৮ থেকে ১০ নম্বর আসনের দায়িত্বে রয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার। চট্টগ্রাম-১১ আসনের দায়িত্বে আছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বাকি ১০টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক।চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৩১ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব মনোনয়নপত্র বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাছাই করা হবে।জেলা প্রশাসকের দায়িত্বাধীন ১০টি আসনের মধ্যে ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।এ আসনগুলোতে যথাক্রমে ১০ জন, ৯ জন ও ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। এসব আসনে যথাক্রমে ৫ জন, ৯ জন ও ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-১৩ থেকে ১৬ নম্বর আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৩ (আনেয়ারা ও কর্ণফুলী), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৯ জন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩ জন।অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনারের অধীন থাকা চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড) এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ৩ জানুয়ারি। পরদিন চট্টগ্রাম-৮ থেকে ১০ নম্বর আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।বিভাগীয় কমিশনারের অধীন আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ ও ৫ আসনে ১০ জন করে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে সর্বোচ্চ ১২ জন এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১২ জন।ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং পরদিন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা যাবে। প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।