মো:সোহেল রানা, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি >>> আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০০ নং বান্দরবান পার্বত্য জেলা সংসদীয় আসনে দলীয় নমিনেশন ফর্ম জমা দেন ।২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ইং সকাল থেকে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রত্যেকে নিজ দলের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে জেলা শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ-সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের আশপাশে সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।একইভাবে আরো যারা মনোনয়নপত্র জমা প্রদান কারীরা হলেন,জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ,জাতীয় পার্টি (কাদের) মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ এবং এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ শাহ সুজাউদ্দিন।মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাচিং প্রু জেরী উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট পার্বত্য বান্দরবান আসনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে:তৃণমূলের প্রভাব: সাচিং প্রু জেরী এই অঞ্চলের আদিবাসী ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের কাছে সুপরিচিত হওয়ায় লড়াই হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।নির্বাচনী প্রস্তুতি: তাঁর মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও পাহাড়ে বিএনপির একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দের অপেক্ষা রয়েছে সাধারণ ভোটাররা।