আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ভূমি অফিস—সরকারি অফিস, কিন্তু কাজের গন্ধে নয়, ঘুষের দুর্গন্ধে এখন ভরপুর এ যেন ভূমি অফিস নয় ব্যাংকের উপ শাখা । ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজ করতে গেলে মানুষের হাতে আগে কাগজ নয়, গুনতে হচ্ছে টাকার বান্ডিল। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘুষ বাণিজ্যের মূল নায়ক নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়া।
ভুক্তভোগীরা জানান, শুনানির তারিখ ঠিক করতে হলে রিমন বড়ুয়ার হাতে নগদ টাকা গুনতে হয়। টাকা না দিলে তারিখের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে হয় অফিসে। কেউ যদি ঘুষ না দেয়, সে ফাইল পড়ে থাকে বছরের পর বছর।
শুনানির পর রায়ের কপি পেতেও দিতে হয় একই অঙ্কের টাকা। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দিয়ে রায়ের কপি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। রিমনের পকেটে ঘুষের টাকা না ঢুকলে কপির জন্য হাহাকার করলেও কাজ হয় না।
সরকারি ফি’র বাইরে এভাবে খোলাখুলি ঘুষ দাবি এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে সাতকানিয়া ভূমি অফিসে। মানুষ বলছে—এ অফিসে ন্যায্য কাজও করতে হলে ঘুষের টাকার গন্ধ না ছড়ালে ফাইল নড়ে না!
ভূমি অফিসের কাজ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষ বলছে, ফি তালিকায় যেটা লেখা আছে, সেটা শুধু নামেই আছে। বাস্তবে কাজ করতে গেলে আগে রিমন বড়ুয়ার হাতে গুনতে হয় নগদ টাকা। শুনানির তারিখ দিতে গেলে ৫ হাজার টাকা না দিলে তারিখই পড়ে থাকে বছরের পর বছর। মামলা পেন্ডিং, মানুষ দৌড়াচ্ছে—তবু কাজের গতি নেই। শুনানির পর যখন রায়ের কপি দরকার হয়, তখনও একই কাণ্ড। সরকারি ফি মিটিয়েও রায়ের কপি পেতে হয় ঘুষের পাহাড় পেরিয়ে। ৫ হাজার না দিলে মাসের পর মাস পচে যায় ফাইল, আর কপির জন্য মানুষ ঘুরতে থাকে।
নোমান নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ভূমি অফিসে গিয়ে মনে হয় আমরা দেশের নাগরিক না, ভিক্ষুক। শুনানির তারিখ নিতেও ঘুষ, রায়ের কপি নিতেও ঘুষ—এ কেমন রাষ্ট্র! তার পরিবার থেকে রিমন বড়ুয়া মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া জিটিভির সাংবাদিক হারুন আর রশিদ জানান, তার এক নিকটাত্মীয় থেকে রিমান বড়ুয়া সাত হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
নাজির কাম ক্যাশিয়ার রিমন বড়ুয়ার নামেই এখন ক্ষুব্ধ মানুষের আঙুল উঠছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি শুধু ঘুষ নিচ্ছেন না, বরং ঘুষের নিয়ম বানিয়ে ফেলেছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, রিমনের হাতে টাকা দিলে ফাইল চলে যায় উপরে, না দিলে ফাইলের ধুলোও ঝাড়ে না কেউ।
অনেকেই জানালেন, সরকারি নিয়মকানুন না জেনেই তাকে মানতে হচ্ছে, কারণ তার হাতে ক্ষমতা—ফাইল ধরে রাখার, কাজ আটকে দেওয়ার ক্ষমতা। মানুষের ক্ষোভ আর আর্তনাদ প্রতিদিন সাতকানিয়া ভূমি অফিসে ভিড় করছে অসংখ্য মানুষ। কেউ আসছে জমির কাগজ ঠিক করতে, কেউ মামলার তারিখের জন্য, কেউ রায়ের কপি হাতে পেতে। কিন্তু সবার মুখে এক কথা—“ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না।”
রিনা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী বলেন নামজারী ফাইল অনুমোদনের জন্য আমার কাছ থেকে এই নাম্বার থেকে ফোন করে -০১৮২৭৪০২৭৪৭ দুই হাজার টাকার চাইছে,আমার নামজারির ফাইললে টাকা দিতে চাইনি বলে ফাইলটি খারিজ করে দিছে,যার মামলা নম্বর
১৪৯১(IX-I)/২০২৫-২৬ এখন আবার নতুন ভাবে আমাকে আবেদন করতে হইছে,এই অপরাধগুলো অফিসে দেখার যেন কেউ নাই। কেন আমার ফাইল সার্ভেয়ার কানুনগো প্রতিবেদনের পর বাতিল হল এটাই উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন।
এক বয়স্ক মানুষ বললেন, আমি জীবনে প্রথমবার জমির কাগজের জন্য ঘুষ দিলাম। না দিলে কাজই হচ্ছিল না। দেশের স্বাধীনতা হলো আমাদের জন্য—নাকি ঘুষখোরদের জন্য?এ বিষয়ে রিমন বড়ুয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে কল রিসিভ না করাতে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাতকানি উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, অফিসে কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)মোঃ সাদি উর রহিম জাদিদ’র সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসলে এ বিষয়ে আমি অবগত নয়, তবে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর যদি কেউ কোন অভিযোগ দিয়ে থাকেন,তা আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

