মোঃ সোহেল রানা, বান্দরবান প্রতিনিধি >>> বান্দরবানের মারমা বাজারে জুমে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ওপর টোল-ট্যাক্স আদায়কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাজার ফান্ড প্রশাসক অধ্যাপক থানজামা লুসাই সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল-ট্যাক্স না নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তাঁর এমন নির্দেশ অমান্য করে ইজারাদারের লোকজন টোল আদায় অব্যাহত রেখেছে।বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজার পরিদর্শনে গিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “মারমা বাজার বাজার ফান্ডের আওতাভুক্ত নয়। এখানে ইজারাদারের টোল আদায়ের কোনো এখতিয়ার নেই। কৃষকদের কাছ থেকে টোল-ট্যাক্স নেওয়া বন্ধ করতে হবে।কিন্তু বাজারে উপস্থিত কৃষকরা জানান, তাদের নিয়মিতভাবেই টোল দিতে হচ্ছে। তারাছা থেকে আসা কৃষিপণ্য বিক্রেতা থুইনু প্রু (৫০) বলেন, “প্রতি বাজারবারে ৫০ টাকা করে দিতে হয়, আজও দিয়েছি। একই অভিযোগ করেন বাঘমারা থেকে আসা সামাচিং মারমা (৫৫)। তিনি বলেন, ৪০ টাকা দিতে হয়। চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন না দিতে—এখন থেকে আর দেব না।জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মারমা বাজার থেকে টোল আদায়ের জন্য ইজারা পান মেসার্স মিল্টন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাও সেতুং তঞ্চঙ্গ্যা। তিনি মো. আব্দুল মাবুদকে আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে মাবুদ দায়িত্ব দেন চসা মং মারমা (বাবু) নামে আরেকজনকে। তবে এখনো বাজার ফান্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।চসা মং মারমা জানান, এক গাড়ি কলা ছড়ার জন্য আদায় করা হয় দেড় হাজার টাকা। এছাড়া শসা প্রতি মণ ২০ টাকা, শুকনা হলুদ ১২০ টাকা, বরবটি ২০ টাকা এবং আদার ওপর ৩০ টাকা করে টোল ধার্য রয়েছে।এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, “জুম চাষিদের কষ্টার্জিত ফসলের ওপর এভাবে টোল বসানো সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি। প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মারমা বাজার পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএস মং, জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা, ডা. মং উষাথোয়াই, ক্য সা মং মারমা, উচো মং মারমা, চনু মং মারমা এবং নারী নেত্রী কৃপা ত্রিপুরা, বান্দরবান প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।