আনোয়ার হোসেন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধি >>> নীলফামারী কিশোরগঞ্জে জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর সাতঘড়ি পাড়া গ্রামকে একটি ছবির মতো পরিচ্ছন্ন,স্বাস্থ্যকর ও একই সাথে মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামকে পরিবেশ বান্ধব গ্রাম ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬আগস্ট)দুপুরে কিশোরগঞ্জে এপি,ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি প্রকল্পের আওতায় সাতঘড়ি পাড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নিতাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দীর্ঘ এক বছর নানা কার্যক্রম (সূচক) বাস্তবায়নের সফলতা তুলে ধরে স্বাস্থ্যকর গ্রাম ঘোষণা করেন,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা.নীল রতন দেব,পরিচ্ছন্ন গ্রাম ঘোষণা করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম ও পরিবেশ বান্ধব ও আদর্শ গ্রাম ঘোষণা করেন, চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান আবু। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, এপি ম্যানেজার সাগর ডী’ কস্তা, ইউপি সদস্য, ভিডিসি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ জনগণ, শিশু ও যুব ফোরামের প্রতিনিধি, সহায়তাকারী প্রমুখ। এসময় তারা সফলতার গল্প তুলে ধরাসহ পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর গ্রাম গঠনে নানা দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, প্রোগ্রাম অফিসার জন কেনেডি ক্রুশ। চেয়ারম্যান মোত্তাকিনুর রহমান বলেন, গ্রাম দুটিকে পরিচ্ছন্ন,স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব গ্রাম অর্জনে কিশোরগঞ্জ এপি, ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহন ও সুপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং গ্রামবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি আরে বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় গ্রামের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেষ্ট হয়েছে। এর আগে গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন, পশুপালন,পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে জৈব বালাইনাশক পদ্ধতিতে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাসহ নানা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে উঠোন বৈঠক,সভা, সেমিনার করা হয়। এছাড়াও গ্রামের সৌন্দর্য বর্ধনে খোলা জায়গায়, সড়কের দু’ধারে,বাড়ির উঠোনে সারি সারি ভাবে আদা ও চটকদার হরেক রংবেরঙের ঝুলন্ত ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়। এর ফলস্বরূপ, গ্রামগুলো এখন সবুজে ভরা, আবর্জনামুক্ত এবং রোগমুক্ত পরিবেশে পরিণত হয়েছে। যা এই সাফল্য অন্যান্য গ্রামের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।