মোঃ মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি >>> আজ ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুনভাবে সংযোজিত এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন—‘৩৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। গত বছরের এই দিনে টানা এক মাসের রক্তাক্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল এক রক্তক্ষরা পালাবদলের দিন। সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে আজ প্রথমবারের মতো দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।২০২৪ সালের জুলাই মাসজুড়ে দেশের রাজপথ ছিল উত্তাল। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় গণ-আন্দোলনে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নামে। সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর দমন-পীড়ন শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শাসকদল সমর্থিত সংগঠনগুলোর হাতে নিহত হন বহু মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দমন করতে গুলি চালানো হয়, যার বলি হয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও।পরিস্থিতি চরমে পৌঁছে ৫ আগস্টে। ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাককে ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর রাজপথে লাখো মানুষ সমবেত হয়। দুপুরে খবর ছড়িয়ে পড়ে—তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সামরিক বিমানে দেশত্যাগ করেছেন। মুহূর্তেই রাজপথে উদযাপনের ঢেউ উঠে। ঐ দিনকেই আন্দোলনকারীরা নাম দেন ‘৩৬ জুলাই’।পরে অন্তর্বর্তী সরকার দিনটিকে ঘোষণা করে ‘৩৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি। রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিকাল ৫টায় আয়োজিত হবে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মগুলো নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি স্মরণ করছে।বিগত সরকারবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এমসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা—এ বছর দিবসটি রাজকীয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে গণমিছিল, আলোচনা সভা ও শোকসভা আয়োজন করেছে। তারা একে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছে।জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (OHCHR) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ওই একমাসে দেশজুড়ে প্রাণ হারান অন্তত ১,৪০০ জন, যাদের মধ্যে ছিল শতাধিক শিশু। আহত হয় প্রায় বারো হাজার মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা একে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেয়।এ বছর দিবসটিকে ঘিরে যে আলোচনা, আয়োজন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলছে, তা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয়—দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন প্রজন্মের চোখে এই দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং গণমানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক।