মোঃ সোহেল রানা, বান্দরবান প্রতিনিধি >>> বান্দরবানের লামা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এবং বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ। এ অবস্থার প্রতিবাদ জানাতে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা লামা বাজার চত্বরে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ছাত্র-জনতা। তারা বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং দ্রুত সমাধান দাবি করেন।স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক সময় বিদ্যুৎ আসছে মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য। এতে ঘরোয়া জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।এছাড়া ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও উঠেছে। অনেকেই বলেন, যেসব গ্রাহক বিদ্যুৎ পানই না, তাদের ঘরেও অতিরিক্ত বিল পাঠানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনৈতিক।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কক্সবাজার থেকে বদলি হয়ে আসা বিদ্যুৎ বিভাগের একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার দায়িত্বহীনতা ও স্বজনপ্রীতির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বক্তারা অবিলম্বে ওই কর্মকর্তাকে অপসারণ করে বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর সংস্কার দাবি করেন।বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে চকরিয়া হয়ে লামা-আলীকদম পর্যন্ত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাব। জানা যায়, ১৩২/৩৩ কেভি কক্সবাজার গ্রীড উপকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা লামা-আলীকদমের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ।বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ শুধু অবকাঠামো নয়, এটি নাগরিক অধিকার। তাই জনগণ যদি নিয়মিত বিল দিয়ে সেবা না পায়, তবে তা একটি বড় ধরনের অবিচার।পরিশেষে বক্তারা অবিলম্বে অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি স্মারকলিপি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বরাবর প্রেরণ করা হয়।