তাহিরপুর প্রতিনিধি >>> সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া জয়বাংলা বাজারে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিন দিন আগে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বড়ছড়া জয়বাংলা বাজার এলাকায় একটি রাজনৈতিক দলের অফিস ঘরের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঘটনার সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন।এরমধ্যে দুজনের পরিচয় জানা যায়, বড়ছরা গ্রামে’র কমল দাস”এর ছেলে রনজিত (২২) একই গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে আওয়াল মিয়া (২৬) বাকিদের পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় জয়বাংলা বাজার কমিটির নিকট উপস্থাপন করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের ডেকে পাঠানো হলেও তারা প্রথমে হাজির হননি। পরে গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনকে ধরে বাজার কমিটির সামনে আনা হয়। এরপর কমিটির উদ্যোগে একটি ‘স্থানীয় বিচার’ অনুষ্ঠিত হয়।তবে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— ধর্ষণের মতো একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার বাজার কমিটি কীভাবে করে?আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ একটি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ, যার বিচার শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইন ও আদালতের মাধ্যমেই হতে পারে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।