মোঃ সোহেল রানা,বান্দরবান প্রতিনিধি >>> নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর শেষ না হতেই বর্ষণের ফলে বান্দরবান-সুয়ালক-লামা বাইপাস সড়কে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় গত শুক্রবার (৩০ মে) থেকে ওই সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।রবিবার(০১ জুন) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবানের টংকাবতী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া এলাকায় সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে ভয়াবহ অবস্থা ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।টংকাবতী ইউনিয়নের পুনর্বাসন ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা হেবল ত্রিপুরা বলেন,“দুই বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পাকা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেটি ব্যবহার করার অযোগ্য। বারবার জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা তঙ্গয়ে ম্রো ও ট্রাকচালক জসিম। তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের দুই পাশ ধসে পড়ে। ফলে শুক্রবার সকাল থেকে সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।সরকার কোটি টাকা ব্যয় করলেও পরিকল্পনার ঘাটতি কারণে রাস্তার বেহাল দশা হয়েছে ,পাহাড় ধ্বসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে জেনেও কোন প্রকার স্থায়ী পরিকল্পনা না করে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে বলে দাবি স্থানীয় জনসাধারণের ।টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মায়াং ম্রো প্রদীপ বলেন,“গত বছর থেকেই সড়কে ধস দেখা দিচ্ছে। এলজিইডিকে জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার বর্ষার শুরুতেই সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয়দের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”এ বিষয়ে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পারভেজ সরোয়ার হোসেন বলেন,“টংকাবতী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া এলাকায় সড়কের তিনটি জায়গায় বড় ধরনের ভাঙন হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে সাইট পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট প্রণয়ন করে প্রধান কার্যালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হবে।”তিনি আরও জানান, বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কের দুই পাশে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।