মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি >>> মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিবিএ সংগঠনের নির্বাচন ইস্যুতে আবারও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রায় ৩ বছর আগে এ সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর গঠিত এডহক কমিটি নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্ব করায় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের শেষ দিকে সিবিএ’ নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষশের মেয়াদ শেষ হয়। তখন আ’লীগ নেতা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রভাব বিস্তার এবং তার মনোনীতদের সিবিএ’র কর্তৃত্ব দখলের প্রচেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে। এ নিয়ে পরস্পর বিরোধী মামলা ও দড়ি টানাটানিতে আটকে যায় সিবিএ’ ত্রিবার্ষিক নির্বাচন। এক পর্যায় গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সিবিএ খালেকের প্রভাব মুক্ত হয়। পরবর্তীতে খুলনা যুগ্ম শ্রম অধিদপ্তর হতে দ্রুত নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এডহক কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামিমকে আহবায়ক ও নুর উদ্দীন টুটুলকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কর্মচারি নেতাদের অভিযোগ,চলতি বছর জানুয়ারিতে সিবিএ’র নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু হলেও এডহক কমিটিতে নানা তদ্বিরে ঠাই নেয়া আলীগের আঞ্চলিক শ্রমিক সংগঠনের চিহ্নিত কতিপয় নেতা-কর্মী পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন দপ্তরে উড়ো চিঠি সহ মামলার ফাঁদে ফেলে নির্বাচন বানচালে চক্রান্ত চালাচ্ছে।এ অবস্থায় দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে গতকাল ১৩ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় সিবিএ কার্যলয়ের সামনে কর্মচারীদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মচারী নেতা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম পল্টু, ফকির জাহিদুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ, নাসির চৌধুরী, মো: এনামুল হক, সরোয়ার হোসেন খোকন ও ফজলুল হক প্রমুখ। বক্তরা -দ্রুত সময় সিবিএ সংঠনের নির্বাচনের দাবি জানান। বন্দর শ্রমিক কর্মচারী সংঘের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম পল্টু অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তর ৫ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি ও তিন সদস্য নির্বাচন পরিচালন কমিটি গঠন করে। এড হক কমিটির মেয়াদ সংবিধান অনুযায়ী ৪৫ দিন থাকলো তারা নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপন করছে। তাই উক্ত আটক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দ্রুত নির্বাচন দাবিতে আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরে গণস্বাক্ষরিত আবেদন করেছেন সাত শতাধিক বন্দর কর্মচারী।এ বিষয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব নুর উদ্দিন টুটুল আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু স্বার্থন্বেষী একটা মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে হীন চক্রান্তে মেতেছে। এতে একদিকে বন্দরের সুনাম ণস্ট হচ্ছে। অপর দিকে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষাভ ও সন্তোষ বাড়ছে। তবে চলতি মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।