এম নুর নবী আহমেদ,বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন,চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি>>> কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃদ্বয়ের সাথে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমেষ অনুষ্ঠিত হয়।মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১ ঘটিকায় বসুরহাট নির্জন কনভেনশন হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।মত বিনিময় কালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার বলেন,আমরা রাজনৈতিকভাবে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছি কিন্তু ভাঙচুরের যে ঘটনা গুলো ঘটেছে মূলত সেটি করেছে জনতা।আপনাদের সাংবাদিকদের কাছে ছবি আছে আওয়ামী লীগ অফিস আমরা আগুন দিই নাই,আমাদের নেতারা আসার আগে বিক্ষিপ্ত জনতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।এটি গত ১৭ বছরে নির্যাতিত বঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ওবায়দুল কাদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা আমরা জানিও না, কারা জ্বালাও পোড়াও করেছে।তাদের বাড়ি পাহারা দেওয়া ও রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব না।আমারা যেটি দায়িত্ব পালন করেছি আপনারা সাংবাদিকরা অবশ্যই দেখেছেন সরকারি ভবন,সরকারী অফিস রক্ষা করা,আমাদের কাজে প্রশাসন ধন্যবাদ জানিয়েছেন।সাংবাদিকরা বিভিন্ন মতের আদর্শের থাকতে পারে এটি স্বাভাবিক কিন্তু কোন দলের হয়ে ক্যাড়ার ভূমিকা রাখবেন পরবর্তীতে কোন ঝামেলা হলে অথবা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করলে তখন আপনি নিজেকে সেভ করার জন্য বলবেন আমি তো আওয়ামী লীগ নয় সাংবাদিক।এটি মেনে নেয়া যাবেনা।আপনাদের একজন সাংবাদিক আছেন উনি জেলায় দায়িত্বে আছেন সে একজন ক্যাডার আমাদের দলকে হেয়পতিপন্ন করার জন্য সংবাদ প্রকাশ করেছেন এখন ওই সাংবাদিক আমাদের জেলা নেতৃবৃন্দকে ফোন করে বলেছেন উনার নাকি বাড়ি হামলা করেছে।আমাদের নেতাদের কাছে খাটো করার জন্য একটি নাটক সাজাচ্ছেন তিনি।ছিদ্দিক কমিশনার বাড়িতে লোক পাঠিয়েছি এলাকার কোন লোক বলতে পারেনি তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।এখানে একজন সাংবাদিক আছেন তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি দায়িত্ব রয়েছেন এবং বিগত দিনে সে একজন ক্যাড়ার ভূমিকা রেখেছেন রাস্তায় আমাদেরকে দেখলে আমাদের গায়ে হুন্ডা উঠিয়ে দিতো তার কাছে আমরা নিরাপদ ছিলাম না।সাংবাদিক রনি ও চর পার্বতী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ক্যাডার কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন তার বাড়িতে হামলা হয়েছে আমরা খবর নিয়ে দেখলাম তাদের বাড়িতে এমন কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি এভাবে তারা বিভিন্ন জায়গায় গুজব ছড়াচ্ছেন।উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন বলেন,গত ১৭ বছর সুশীল সমাজ কোথায় ছিল?সুশীল সমাজ দিয়ে বিপ্লব হয় না, শুধু আলোচনা হয়,বিপ্লব হয় গণমানুষ দিয়ে,এই সুশীলরা তখন কোথায় ছিল?আমাকে থানার সামনে আক্রমণ করা করা হলো আপনারা সাংবাদিকরা তো একজনও রিপোর্ট করেননি। আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে তো আপনারা কেউ লেখেন নি, লিখতে পারেননি, এখন তারা কি সুশীল হয়ে গেল মাত্র ১৭ দিনের কোন কিছু সহ্য হচ্ছে না তাদের।আপনারা এখন আমাদের বিরুদ্ধে দোষারোপ শুরু করেছেন আপনারা যাচাই বাছাই করে লিখেন যারা অনিয়ম করছে এরা কি আমাদের দলীয় লোক না কি অন্য কেউ।আমাদের দলের লোক না। সরকার পতনের জন্য হেলমেট বাহিনী,কিশোরগঞ্জ বাহিনী লাগেনি,কিন্তু তারা ১৭ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই বাহিনীগুলো ব্যবহার করেছে।তারা কি হেলমেট বাহিনী ব্যবহার করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারছে ?আমাদের কোন কিশোর বাহিনী লাগবেনা,আমরা জনগণের পাশে আছি, জনগণের ভালোবাসায়,আন্তরিকতায় দিয়ে আমরা রাজনীতি করি।৫ আগস্ট যে ঘটনা ঘটেছে এটি নির্যাতিত মানুষের বহিঃপ্রকাশ।এখানে বিএনপিসহ আমাদের জোটের কোন লোক হামলা করেনি। সব হচ্ছে বঞ্চিত মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। যাদের কে জিম্মি করে রেখেছে স্বাধীনভাবে কথা বলতে দেয়নি তারাই এ গুলি করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। কিছুদিন পরে দেখা যাবে পত্রিকার কার্ড নিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অপরাধী এসে আপনাদের সাথে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনুপবেশ করবে এদের ব্যাপারে ছাড় নেই।এরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল এরা অনুপ্রবেশকারী। সাংবাদিক হচ্ছে এদেশের আয়না আপনারা যারা এত বছর মন খুলে লিখতে পারেননি আপনারা লিখেন, আমরা সহযোগিতা করবো।গত ১৭ বছর জিম্মি করা শাসন সম্পর্কে আপনারা লিখেন, ধারাবাহিক প্রতিবেদন লিখতে আমাদের কাছ থেকে সাক্ষাৎ নিতে চাইলে আমরা দেব। আপনারা এই স্বৌরশাসক, এই ফেরাউন আব্দুল কাদের মির্জার অপরাধের রিপোর্ট ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করুন। এদিকে নেতৃবৃন্দ আওয়ামীলীগ ক্যাড়ারদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানান।এসময়ে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বসুরহাট পৌরসভার বিএনপির সহ সভাপতি মমিনুল হক, ও সওকত হোসেন ছগির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ছালা উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সাল, সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজন,যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান টিপু পাটোয়ারী, পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরনবী সবুজ, ওবায়দুল হক রাফেল বসুরহাট পৌরসভা যুবদল আহবায়ক, মাজহারুল হক তৌহিদ সদস্য সচিব পৌরসভা যুবদল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এমরান হোসেন সাগর, সদস্য সচিব নুর উদ্দিন রুবেল প্রমূখ।