কেফায়েতুল্লাহ নিজস্ব প্রতিবেদক টেকনাফ >>> কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযানে চালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত একটি জি-৩ রাইফেল ও ০৫ রাউন্ড তাজা গুলি’সহ আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার জাকারিয়া কে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার র্যাব-১৫।শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ১.৩০ ঘটিকার সময় টেকনাফ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।গ্রেফতারকৃত -মোঃ জাকারিয়া (৩২)কক্সবাজার উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০, ব্লক-এফ/১৭ এলাকার মৃত আলী জোহর পুত্র।কক্সবাজার র্যাব-১৫’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া)মোঃ আবু সালাম চৌধুরী আজ সকাল দশটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান।সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে, কক্সবাজারের উখিয়ার ১০নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার কতিপয় সদস্য নাশকতার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে হতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র নিয়ে এসেছে। এরই সূত্র ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে উখিয়ার ১০নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালায়নের চেষ্টাকালে আরসা সন্ত্রাসী মোঃ জাকারিয়া (৩২),পিতা-মৃত আলী জোহর কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিক এবং সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার গান গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করতো। ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, কিলিং মিশনে ব্যবহৃত অস্ত্র পালংখালী ইউনিয়নের ঘাটি বিলে লুকিয়ে রেখেছে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আরসা সন্ত্রাসীকে নিয়ে র্যাবের আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে যায় এবং সেখানে থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত ০১টি জি-৩ রাইফেল ও ০৫ রাউন্ড তাজা এ্যামুনিশন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, গ্রেফতারকৃত জাকারিয়া ২০১৭ সালে সীমান্ত পার হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ হতে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং ক্যাম্প-১০ এ সপরিবারে বসবাস শুরু করে। পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকালে আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি’র সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং আরসায় যোগদান করে। বাংলাদেশে প্রবেশের প্রথম দিকে সে আরসার নেট দল অর্থ্যাৎ সংবাদদাতা এবং পরবর্তীতে গান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে। এরপর ২০২৩ সালের শেষের দিকে সে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০ এর ব্লক-এফ/১৭ এর ব্লক কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পায়। এ সময় তার নেতৃত্বে আরসার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্য পরিচালনা হতো।সে অস্ত্র চালনায় দক্ষ হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংগঠিত বিভিন্ন নাশকতা, মারামারি, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করতো বলে জানায়।সাম্প্রতিক সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশে সৃষ্ট সংঘর্ষে লুন্ঠিত অস্ত্র আরসা সন্ত্রাসীরা অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করতো এবং বিভিন্ন মাধ্যম বাংলাদেশে নিয়ে আসতো। পরবর্তীতে এই অস্ত্র গ্রেফতারকৃত জাকারিয়া তার নিকট গচ্ছিত রাখতো। অতঃপর ক্যাম্প-১০ এর আরসা কমান্ডারের নিকট হস্তান্তর করা হতো এবং ক্যাম্পে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে এ সকল অস্ত্র ব্যবহার করতো। গ্রেফতারকৃত জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের উখিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও দুইবার কারাভোগ করে বলে জানা যায়।গ্রেফতারকৃত আরসা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা ।