মোঃ আল আমিন মালদ্বীপ প্রতিনিধি>>> বিশ্ব রাজনীতি ইতিহাসের দিকে সচেতনভাবে নজর দিলে দেখা যায়,যুগে-যুগে কালে-কালে কত সাম্রাজ্য থেকে সম্রাট,রাজা থেকে মহারাজা,সৈনিক থেকে ক্ষমতাধর সেনাপতি নষ্ট আর নির্মম অপরাজনীতির শিকার হয়ে মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে কিংবা মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়েছে।অনেকে আবার সাম্রাজ্য,রাজ্য,পদ-পদবী হারিয়ে রাস্তার ফকির হয়ে দাড়িয়েছে।ইসলামী ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই সেখানেও আক্রান্ত হয়েছে এই অপরাজনীতির অপঘাতে।এরপর বিশ্ব সভ্যতার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্যের দিকে তাকালেও আমরা তার ব্যতিক্রম দেখবো না।বিশ্বের ক্ষমতাধর সাম্রাজ্য ছিলো,উসমানীয় সালতানাত।সেখানেও প্রতিনিয়ত সংঘঠিত হয়েছে এই অপরাজনীতির অপব্যবহার। দ্বিতীয় সুলতান সুলেমানের আদরের বড় সন্তান শাহাজাদা মুস্তফা তেমনি এক অপরাজনীতির শিকার হয়ে পিতার হাতে অকালে মৃত্যুবরণ করেন।মহাকালের আবর্তনে দেশে-দেশে,কালে কালে তার হাজারও উদাহরণ জন্ম দিয়ে এই অপরাজনীতি নিজের জানান দিয়ে বয়ে চলছে।মুঘল সাম্রাজ্যতেও এর কমতি ছিলো না।বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গণে এই নির্মমতার ব্যবহার নতুন নয়।এই কথা অস্বীকার করার অবকাশ নেই যে,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে নিজ বাসভবনে নিহত হয় এই অপরাজনীতির লোলুপ নির্মমতার কারণে।বর্তমান ক্ষমতাশীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই অপরাজনীতির কড়ালগ্রাস থেকে রেহাই পায়নি। তার উপরও কত শত অপবাদ আর নির্যাতন নেমে এসেছিলো তার হয়ত জাতির সঠিক জানা নেই।আচ্ছা এখন আমি যদি বিবেকবান মানুষের কাছে একটা প্রশ্ন করি,এই অপরাজনীতির কারণ কি?কেউ কি তার সদুত্তর দিতে পারবেন।জানি পারবেন না,আর নয় তো মনগড়া কাহিনী শুনিয়ে দিবেন,অথবা অহেতু তর্ক জুড়ে দিবে।এছাড়া আর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।থাক বাদ দেন! আমি বলে দিচ্ছি এই অপরাজনীতির কারণ কি? কেন সংঘঠিত হয়!কার বিরুদ্ধে কারা করে।আমার কাছে অপরাজনীতি হচ্ছে,সুস্থ্যধারার বাহিরে নষ্ট মানসিকতা নিয়ে একজন সুদক্ষ,ভাল ও সৎ মানুষকে রাজনীতি থেকে সরানোর জন্য যে কূটকৌশল প্রয়োগ করা হয় তা। কার বিরুদ্ধে করা হয় এই অপকর্মের নির্মম ব্যবহার। রাজনীতির ক্ষেত্রে একটু সচেতনভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়,যে ব্যক্তি সফল সরকার পরিচালনা করে এবং সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালণ করে থাকে কিংবা যে ব্যক্তি সরকারের সুনজরে থেকে সপলতার সাথে সুনামের কাজ করে থাকে তারাই অধিকাংশ সময় এই অপরাজনীতির শিকারে পরিণত হয়। বর্তমানে দেশে ও দেশের বাহিরে নিত্যদিন সংঘঠিত হচ্ছে এই নির্মম বেহায়াপনা।আর এই বিষয়টি আমরা বেশির ভাগ সময় ধরতে ও বুঝতে পারি না।উল্টো শিকার হওয়া ব্যক্তিকেই দোষারোপ করে বেড়াই।
ইদানিংকালে বাংলাদেশের সাবেক সফল ও সুদক্ষ সেনাপ্রধান ও বিজিবি মহাপরিচালক জেনারেল (সাবেক) আজিজ আহমেদ ও তার পরিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন আমাদের জানার বিষয় এটা কি শুধু দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণেই হয়েছে নাকি এতেও রয়েছে সেই চিরচেনা অপরাজনীতির অপঘাত। হ্যা ঠিক চিন্তা করেছেন,এখানেও রয়েছে অপরাজনীতির ঝাঝালো গন্ধ। যা অনেক বিজ্ঞজনও বুঝতে পারছে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার হিসাবে দায়িত্বে আছে প্রায় দেড় যুগের মতো, আর এই সময়ে একে একে দুটি বড় বাহিনীর প্রধান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন জেনারেল আজিজ আহমেদ। আর বিপত্তি বাদে এখানেই একজন ব্যক্তি দুটি বড় পদে তাহলে বাকিরা কি করবে। ব্যাস শুরু হয়ে গেছে কানাঘুষা আর আলোচনা,তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব আর সাহসী পদক্ষেপের কারণে বলার জন্য কেউ সাহস দেখায়নি কিন্তু তাই বলে তারা বসে নেই! গোপনে চালিয়েছে তাদের কর্মকাণ্ড এটা অবুঝ বাচ্চাও বুঝবে।এখানে শুধু মাত্র জননেত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে কেউ কিছু বলেনি।তবে যখনই জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকুরির বয়স শেষ করে অবসরে গেলেন ব্যাস শুরু হয়ে গেলো তাদের সেই কর্মকাণ্ড। জেনারেল (সাবেক) আজিজ আহমেদকে ঘায়েল করার জন্য প্রথমে তারা কাতারভিত্তিক টেলিভিশন আল জাজিরা কে ব্যবহার করেছে এবং বলা যায় সেখানে তারা শতভাগ সফল না হয়ে এরপরের পদক্ষেপ হিসাবে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিমান্য দূরদর্শী পররাষ্ট্র নীতির ব্যবহারে তোরজোড় শুরু করে এবং যার ফলস্বরুপ জেনারেল আজিজ আহমেদ ও তার পরিবারকে সেদেশে নিষিদ্ধ করা হয়।এখন বলতে পারেন,একজন জেনারেল আজিজ আহমেদ-কে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলে তাদের ফায়দা কি?আসলে এখানে ফায়দার হিসাব নয়, বরং এটা সেই পুরানো কাসুন্দির ফসল।
জেনারেল (সাবেক) আজিজ আহমেদ-কে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কারণ দেখিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আসলে জেনারেল (সাবেক) আজিজ আহমেদ-কে নিষিদ্ধ করার প্রথম ও প্রধান কারণ হচ্ছে তিনি যতটা না অনিয়ম আর দুর্নীতি করেছেন তারচেয়ে বেশি দেশপ্রেম আর নিজ মাতৃভূমির প্রতি আনুগত্য থেকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একটি দলের স্নেহধন্য ও ভালবাসা পেয়েছেন।তাকে নিষিদ্ধ করার এছাড়া আর কোন কারণ আমি খুজে পাই না।কেননা,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির সর্বোচ্চ রেকর্ড রয়েছে।এখানে তাহলে তাকে নিষিদ্ধ করার কারণ সেই অপরাজনীতির আধ্যিপত্ত খেলারই নামান্তর ছাড়া আর কিচু নয়।তবে জেনারেল (সাবেক) আজিজ আহমেদ-এর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় সাবেক এ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা দাবি করেছেন,শাস্তি পাওয়ার মতো কোন অপরাধ তিনি করেননি।এরপরও কেন তাকে নিষিদ্ধ করা হলো? আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাকে নিষিদ্ধ করে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগকে বিপাকে ফেলা ও চাপে রাখার কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।যা কোন দেশের পররাষ্ট্র নতি হতে পারে না।আসলে তারা নিজেদের স্বার্থে যেকোন দেশ ও ব্যক্তির সাথে এমন আচরণ করা নিয়মে পরিণত হয়েছে।
জেনারেল (সাবেক) আজিজ আহমেদ সেনাপ্রধানের পদ থেকে ২০২১ সালের ২৪শে জুন অবসরে যান।