আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম দক্ষিণ সংবাদদাতা >>> চট্টগ্রাম জেলা সাতকানিয়া উপজেলার আলোচিত রাজিয়া বেগম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ফারুক সহ ৫ আসামিকে চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এবং সাতকানিয়া থানা পুলিশ হাটহাজারী বড়দিঘী চট্টগ্রাম মুরাদপুর পাঁচলাইশ এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে৷রবিবার(৫মে ২০২৪)তারিখ আনুমানিক ২.৪০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয় ৷গ্রেফতারকৃত-মোঃ ফারুক (৩৪)চট্টগ্রাম সাতকানিয়া উপজেলা মাদার্শা ইউনিয়নের -নুরুল ইসলাম’র ছেলে৷মোহাম্মদ সাহাব মিয়া (৫৫)একই এলাকার মৃত আলী বকসুর ছেলে ৷শারমিন আক্তার (৩০)
একই এলাকার সাহাব মিয়ার মেয়ে, মনজুর আলম (২৩)একই এলাকার সাহাব মিয়ার ছেলে শাহানু আক্তার (৫০)একই এলাকার একই মামলার আসামি সাহাব মিয়ার স্ত্রী ৷চট্টগ্রাম র্যাব-৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোঃ নুরুল আবছাব আজকে বিকাল ৩ টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান৷আসামি ফারুক ভূক্তভোগীদের প্রতিবেশী হয়। জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিবাধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সমঝোতা করলেও ধৃত আসামি মোঃ ফারুক উক্ত জমি নিয়ে তাদের সাথে পুনরায় ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখ ভূক্তভোগীর জমির উপরে ধৃত আসামি মোঃ ফারুকের নেতৃত্বে টিনের বেড়া দেয়ার চেষ্টা করে।এ সময় ভূক্তভোগী মোঃ আলমগীর টিনের বেড়া দেয়ায় বাধা প্রদান করলে ধৃত আসামি মোঃ ফারুক ও তার অন্যান্য সহযোগীরা ভূক্তভোগী ভিকটিম মোঃ আলমগীর এর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।এতে মোঃ আলমগীর মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় তার মা রাজিয়া বেগম ছেলেকে বাঁচাতে আসলে দুষ্কৃতিকারীরা মোঃ আলমগীরের মায়ের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। মা ও ছেলে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে থাকা অবস্থায় আশেপাশের লোকজন চিকিৎসার জন্য সাতকানিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ ফারুক ও তার অন্যান্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হুমকি প্রদান করে যে, উক্ত ঘটনায় কোন প্রকার আইনের আশ্রয় নিলে পুনরায় মারধর, হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করে।উক্ত ঘটনায় ভূক্তভোগী ভিকটিম মোঃ আলমগীর বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানায় ০৬ জন’কে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে,যার মামলা নং-২২, তারিখ-২০ এপ্রিল ২০২৪ উক্ত মারামারির ঘটনায় ভূক্তভোগী ভিকটিম রাজিয়া বেগম গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় গত ১৬ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ এপ্রিল ২০২৪ইং তারিখ মৃত্যুবরণ করেন। যার কারণে উক্ত মামলায় পেনাল কোড ৩০২/৩৪ ধারা সংযোজন করে হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়।র্যাব-৭, চট্টগ্রাম বর্ণিত হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরধারী এবং ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে। নজরধারীর এক পর্যায়ে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, বর্ণিত হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মোঃ ফারুক আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট হতে গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মবেশে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় অবস্থান করছে।উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল, বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ ফারুক (৩৪)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃত আসামি’কে জিজ্ঞাসাবাদে সে সূত্রে বর্ণিত হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মর্মে স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন,র্যাব ৭ এর পাশাপাশি আমাদের সাতকানিয়া থানার টিম এসআই আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে,তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হাটহাজারী বড় দিঘী এবং মুরাদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে৷মোহাম্মদ সাহাব মিয়া (৫৫)শারমিন আক্তার (৩০)মনজুর আলম (২৩) শাহানু আক্তার কে গ্রেফতার করা হয়৷তবে উক্ত মামলার দুই নম্বর আসামী ব্যতীত সকল আসামি গ্রেফতার হয়েছে ৷পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের পুলিশ স্কটএর মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়৷