আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> মাদ্রাসা থেকে বাড়ির ফেরার পথে কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন নয়াপাড়া শাল বাগান এলাকা হতে অপহরণের শিকার মাদ্রাসা পড়ুয়া তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মোঃ সাইফ উদ্ধার; অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজন কে গ্রেফতার করছে কক্সবাজার র্যাব ৷সোমবার (৩০ এপ্রিল২০২৪) ৪:৩০ ঘটিকার সময় টেকনাফ নয়াপাড়া শাল বাগান এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয় ৷গ্রেফতারকৃতরা হলেন-কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া এলাকার-নুর আলম’র ছেলে৷হাসান বশর (১৯) (রোহিঙ্গা),
টেকনাফ শালবন নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্প, এলাকার-আবুল ফয়েজ প্রকাশ মাঝি’র ছেলে৷ মোঃ আব্দুল্লাহ (১৬),
টেকনাফ জাদিমুড়া এলাকার-সৈয়দ হোছনের ছেলে ৷সেলিম (৪৭), টেকনাফ নাজিরপাড়া এলাকার
-মৃত ঠান্ডা মিয়া’র ছেলে।আক্তার কামাল(১৬) টেকনাফ উপজেলার জাদিমুড়া এলাকার -আবুল কালামের ছেলে ৷
কক্সবাজার র্যাব -৭’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) মোঃ আবু সালাম চৌধুরী আজ দুপুরের সংবাদ থেকে জানান৷বিগত ২৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ কক্সবাজার টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া নয়াপাড়া শাল বাগান রাস্তার মাথা থেকে জাদিমুড়ার রহমানিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসা নূরানী বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মোঃ সাইফ (৯) নামে এক শিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হয়। অপহৃত ভিকটিম প্রতিদিনের মত মাদ্রাসা ছুটি হয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে পরদিন সকালে একটি মোবাইল ফোন থেকে কল করে সাইফ’কে পেতে বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্তিপণ দাবী এবং মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মামা বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে জনমনে ব্যাপক সমালোচনা ও ভিকটিমকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।অপহরণের ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়া মাত্রই র্যাব-১৫ ভিকটিমকে উদ্ধারসহ অপহরণ চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প,জাদিমুড়া, দমদমিয়া এবং নাজিরপাড়া এলাকায় র্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ভিকটিম মোঃ সাইফ (৯), পিতা-মৃত মোহাম্মদ হোছন, সাং-জাদিমুড়া নয়াপাড়া, হ্নীলা ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজারকে উদ্ধার এবং অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজন গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা হয় ০২টি এন্ড্রয়েড ফোন, ০২টি বাটন ফোন, ০১টি ঘড়ি এবং নগদ ৩০০/- টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহৃত ভিকটিম সাইফ’কে ঘটনার দিন টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় মর্মে স্বীকার করে। আরো জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা অপহরণ ও কিশোর গ্যাং এর সদস্য। তারা স্থানীয় ও রোহিঙ্গা কম বয়সী যুবকদের ১২-১৫ জনের সমন্বয়ে একটি কিশোর তৈরী করে এবং অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসছিল। তাদের গ্যাং এর সদস্যদের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় কার্য সম্পাদন করে থাকে মর্মে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে টেকনাফ মডেল থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।