দিদারুল ইসলাম,চট্টগ্রাম>>> দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ চাঁদাবাজদের অনৈতিক দাবীর কাঁছে অসহায় জিম্মি হয়ে ছিল সহজ সরল সিএনজি চালকরা।প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রাতারাতি গজিয়ে উঠা এসব চাঁদাবাজদের হাতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে অনেক যাত্রীকেও।চট্টগ্রাম নগরীর শাহ আমানত নতুন ব্রীজের শহর প্রান্তের সিএনজি স্ট্যান্ডের বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানীর অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিগৃহিত হতে হয়েছে সংবাদ কর্মিদেরও।অবশেষে র্যাবের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ল ৬ চাঁদাবাজ।গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে।৪ এপ্রিল’২৪ ইং বৃহস্পতিবার দুপুর ২.৩০ টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম জানতে পারে যে, কতিপয় চাঁদাবাজ চক্র চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন শাহ্ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে জোরপূর্বক অবৈধভাবে চাঁদা আদায় এবং চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ড্রাইভারদের মারধরসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল।উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে চাঁদাবাজ ১।মোঃ মিজান (২৪),পিতা-মোঃ আবুল মোতালেব,সাং-গন্ডামারা, থানা-বাঁশখালী,বর্তমানে-লিকুর মার কলোনী,বাস্তহারা,থানা-বাকলিয়া,জেলা-চট্টগ্রাম,২। মোঃ জমির (৪৫),পিতা-আহাম্মদ কবির, সাং-পাখপড়ুয়া,থানা-বোয়ালখালী,বর্তমানে-মদিনা ক্লাব নাসির বিল্ডিং,থানা-বাকলিয়া,জেলা-চট্টগ্রাম,৩। মোঃ জাকির হোসেন (২৭), পিতা-মৃত রহিম, সাং-লক্ষীপুর,থানা-লক্ষীপুর সদর,জেলা-লক্ষীপুর, বর্তমানে-বাদশা চেয়ারম্যানঘাটা,বেলাল কেয়ারটেকার এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া,থানা-চান্দগাঁও, জেলা-চট্টগ্রাম, ৪। মোঃ মঞ্জু মিয়া (২৮),পিতা-মৃত কামাল উদ্দিন,সাং-দক্ষিণ হাসিয়া, থানা-পটিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম,৫।মোঃ আক্তার কামাল (৪৮), পিতা-মৃত আহাম্মদ সুফা,সাং-বারখাইন,থানা-আনোয়ারা,জেলা-চট্টগ্রাম এবং ৬।মোঃ শুভ হাসান (৩৭), পিতা-আলী আহম্মদ, মাতা-নুর আয়েশা, সাং-নতুন চরফা গড়িয়া, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রামদের আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ তারা দীর্ঘ ৪/৫ বছর যাবৎ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন শাহ্ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় সিএনজি,বাস,মালবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য পরিবহন থেকে জোড়পূর্বক গতি রোধ করে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল বলে স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে,তারা পরস্পর যোগসাজশে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন শাহ্ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ভূয়া টোকেন এর মাধ্যমে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছিল।এছাড়াও প্রতিদিন লাইনম্যানরা সকাল-বিকাল দুইটি শিফটে প্রতিটি গণ-পরিবহণ, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক এবং সিএনজি অটোরিক্স থেকে প্রতিবার আসা-যাওয়ার সময় ২০ টাকা থেকে শুরু ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে মর্মে স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম জেলার বাকলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

