কবি ও লেখক সৈয়দা রুবীনা
কোথা গেলে পাবো সেই দিন
কাঁঠালচাঁপার গন্ধে সারাবেলা ছিলো যে রঙিন
উদোমো গায় মেঠোপথে মটরশুঁটি জড়ায়ে
দেহখানি দিতাম মাটিরো ঘরে এলায়ে ।
স্বাধীনতা খুঁজতে খানিকটা দেরি হলো বেশ
পঞ্চাশ পেরিয়েও এখনো স্বাধীনতার
মানেটা বুঝা হয়নিকো শেষ!
ইউক্রেন -রাশিয়া ! ইসরাইল-ফিলিস্তিন
কতো-শত সভ্যতা পড়েছে মাটির তলায় চাপা
সভ্যতারা হত্যাযজ্ঞে তবুও খেলিছে হোলি
দেখিছে না দূরোভবিষ্য
চলছে দামামা, ঝাঁঝরা হচ্ছে বিশ্ব !
স্বাধীনতা মানে খুঁজতে গিয়ে, দেখি ঝুপড়িতে পড়ে থাকা
এক মা !
কতোটা ঝুপড়ি নাই না বললেম——
একদিকে ছেলের বিলাশ বাড়ি, —- অন্যদিকে
মায়ের গোঙ্গানি ক্রমশ: ক্ষীণো !
দূর্বিসহ যন্ত্রণায় ছটফটানি, কি বুঝবে সে স্বাধীনতা?
লক্ষ শিশুর লাশ নিয়ে, যে যুদ্ধে চলছে গণ কবর
স্বাধীনতা সেখানে কান্না হয়ে ঝরছে
ধ্বংস স্তুপ থেকে বাঁচার স্বাধীনতা খুঁজছে
অজস্র ব্যবচ্ছেদ —–
এখনও সলতেখানি নিভু!
সারাদিন খেটে বাজারদরের সাথে —
হাঁপিয়ে উঠেছে যে বাবা
কিনবে ঔষধ, তরকারি নাকি খানিকটা কেরোসিন
স্বাধীনতা নিছক প্রশ্ন তার কাছে
এর উত্তর দেবে কেবা ?
চাই ফিলিস্তিন সকল শিশুর স্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা খুঁজতে খুঁজতে মিলে শুধুই চিৎকার
দুধের কৌটায় ইসরাইলের বোমার অংশবিশেষ
অজস্র ব্যবচ্ছেদ ——
নারকীয় নগ্ন কায়দায় চলছে স্বাধীনতা অর্জনের যে খেলা
ঐসব নারীরা কি জানে, স্বাধীনতা মানেটা কি ?
একটু পরেই তার মৃত্যু নাকি ধর্ষণ করছে অপেক্ষা
স্বাধীনতা মানে কি নিচ্ছে বিশ্ব বিবেক, শিক্ষা ।
বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলাম স্বাধীনতা খুঁজতে
কতো শত শিক্ষিত মা বাবা তাদের সন্তানদের উচ্চশিখরে উঠিয়ে তারা মা ডাকের বাবা ডাকের অপেক্ষা করতে করতে একসময় অচেনা মানুষগুলোর হাতেই দাফন হতে হয় শেষ পর্যন্ত —–
এই তো স্বাধীনতা ।
স্বাধীনতা মানে দেখেছিলাম মায়ের ভাষায় কথা বলা
স্বাধীনতা মানে দেখেছিলাম নববধূর কপলে সিঁদুর তলা
সবুজের মাঝে নতুন আবিস্কারে চলায় ফলা,
কৃষক তার কৃষাণীর নাকে পরায় নাকফুল
কানে ঝুমকো জবা দুল ।
স্বাধীনতা মানে ,
কৃষ্ণচূড়ার মাতাল হাওয়ায় ফাগুনের উত্তাল
পাতাঝরা মর্মরে নবজাগরণে পাখিদের সঙ্গম
আর মৌমাছির গুঞ্জরণ ।
তাই খুঁজে ফিরি নারীর চুড়ির রিনিঝিনিতে স্বাধীনতা
শাড়ির ভাঁজে চোরকাঁটার বেদন নয়
দেখতে চাই স্বামী সোহাগীর স্বাধীনতা ।
স্বাধীনো মঙ্গোলম উত্তমো উত্তমো নব চিত্য জাগম,
দূয়ারো খুলে দাও সকল জগতময়
মম কল্যাণো কল্যাণো, স্বাধীনো মঙ্গোলম, চির মম।
নহে নহে যুদ্ধম,
ঢাঁকো সম্ভ্রম,
ওহে উচ্চবিত্তম!
রহো ! রহো !
নহে বিরহ!
উম্মুক্ত ধরমো করমো
শান্তি স্বাধীনো,
শান্তি স্বাধীনো,
চিরসত্যম শুভম ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
২৭/৩/২০২৪ খ্রী.
বিঃদ্রঃ কবিতার বানানগুলো আবৃত্তির আঙ্গিকে লেখা ।