রিপোর্ট আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক>>> চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ব্যাপক অনিমের চিত্র উঠে এসেছে দুদকের অভিযানে প্রতিটি এলইডি ২৫ হাজার টাকা দামের ক্রয় মূল্য দেখানো হয়েছে যার বাজার মূল্য ৫ হাজার টাকা।এমন হরিলুটের ব্যাপক অনিমার চিত্র বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে।শুধু তাই নয়,পূর্বাঞ্চল রেলে বিভিন্ন সময় যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রই বড় অংকের দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া গেছে দুদক।সুনির্দিষ্ট মূল্যের চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আট গুণ এরও বেশি,আবার অন্য কোনো ক্ষেত্রে ১৫ গুণ বেশি দামেও এলইডি লাইট,এলইডি স্ট্যান্ড ও ওয়াকিটকি ক্রয় করা হয়েছে।(২৮ মার্চ) ২০২৪ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কার্যালয় ভবনে এই অভিযান পরিচালনা করেন দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। উক্ত অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এনামুল হক।অভিযান পরিচালনার সময় এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যদের রেলওয়ে সর্ব প্রথম পূর্বাঞ্চলের বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর কার্যালয় হতে ৯০টি এলইডি লাইট ও এলইডি ল্যাম্প ক্রয়ের তথ্য উদঘাটন করা হয় ৷তারপর কন্ট্রোলার অব স্টোরস অফিস কার্যালয় গিয়ে ক্রয় বিক্রয়ের বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিবেচনা করা হয়৷এতে দেখা মিলে, এলইডি বাতিগুলোর প্রতিটি ক্রয় মূল্য ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০ টাকা করে।কিন্তু দুঃখের বিষয় হল বাজারে একই এলইডি বাতি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকায় ক্রয় করা যায়।চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক সদস্যরা।ড্রিলিং মেশিন .লিফটিং জ্যাক ও কাটিং জ্যাক ক্রয়ের কাগজপত্র উদঘাটন করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম প্রমাণ পেয়েছেন, যন্ত্রাংশগুলোর বাজার মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা হলেও সেগুলো ক্রয় করা হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকায়।এটি পিপিপি এবং পিপিআরের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।দুদক সদস্যদের অনুসন্ধানে দেখা মিলে,ঠিকাদারের সঙ্গে ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে একই ঠিকানায় নিবন্ধিত দুটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।পূর্ব পরিকল্পনা করে এর মধ্যে একটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে৷অপরদিকে ৷বাজারমূল্য নির্ধারণে কমিটি করা হলেও সেই কমিটি কোন্ মানদণ্ড বিবেচনা করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য নির্ধারণ করেছে,সে সম্পর্কে লিখিত কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি তাদের অভিযানে।দুদকের অভিযান পরিচালনামামলায় নূরে এলাহী ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের আখড়া সত্যতা মিলেছে যাহা খুবই দুঃখজন।অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী পরিচালক এনামুল হক ভোরের বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন কি বলেন,রেলওয়েতে লিফটিং জ্যাক,ড্রিলিং মেশিন এবং কাটিং জ্যাক ক্রয়সংক্রান্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে ব্যাপক ও নিয়ম দেখা মিলে,উক্ত পণ্যগুলোর প্রাক্কলিত বাজার মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।সেখানে এই পণ্যগুলো ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার অধিক ব্যয়ে কেনা হয়।যা পিপিপি এবং পিপিআরের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।এ ছাড়া আরও কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। আমরা তাদের অনিমের তত্ত্ব উদঘাটনের জন্য আরো অভিযান পরিচালনা করা হবে৷তাদের বিরুদ্ধে ভালো করে পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

