নিউজ ডেস্ক >>> দুবাই থেকে আগত সাতকানিয়া এক অসুস্থ রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাষ জেলা প্রশাসকের সেই মানবিক সহায়তার অর্থ দুবাই ফেরত সাতকানিয়ার সে প্রবাসীর হাতে তুলে দিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে ফেরত আসা সে প্রবাসী হচ্ছে, সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড দক্ষিন চরতি গ্রামের গাইনের পাড়ার মৃত মোতালেব ফকিরের ছেলে নুরুল আমিন।
১৬ মার্চ’২৪ ইং শনিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস অসুস্থ প্রবাসির হাতে এই সহায়তা প্রদান করেন। নুরুল আমিন দুবাইতে এক সপ্তাহ কারাবাসের পর অসুস্থ আবস্থায় ১২ মার্চ দেশে ফিরে এসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমান থেকে নামলে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আর্ম পুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারের কাছে মোবাইলে কল করলে তার পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ নুরুল আমিনকে গ্রহণ করতে অনিহা প্রকাশ করে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে আর্ম পুলিশ নুরুল আমিনকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেন।নুরুল আমিনের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ” আমার স্বামিকে গ্রহণ করবনা বলিনি। আমি মেয়ে মানুষ, ঢাকা যাওয়াতো দুরের কথা,আমি কখনো একা চট্টগ্রাম শহরেও যাইনি, ঘরে উপযুক্ত কোন ছেলে বা পুরুষও নেই, তাই আমাকে যখন ফোন করা হয় তখন আমার এ অবস্থার কথা জানিয়ে আমার স্বামিকে চট্টগ্রাম কিংবা বাড়ির ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছি।”
ব্র্যাক সেন্টার চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “এখানে একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্ঠি হয়েছে। ব্র্যাক কখনো নুরুল আমিনকে তার পরিবার নিতে আগ্রহী না এই কথাটি বলেনি। ব্র্যাক বলেছে, পরিবারের সদস্যরা ঢাকা আসতে চাচ্ছেনা।” মিডিয়াতে বিষয়টি অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। ব্র্যাক সেন্টারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ব্র্যাক মূলত কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। সেটা হোক প্রবাসি কিংবা সাধারণ মানুষ। নুরুল আমিনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ব্র্যাক গ্রহণ করবে। তার চিকিৎসা ও ভবিষ্যত কর্মসংস্থানে ব্র্যাক সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও জানান ব্র্যাকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
নুরুল আমিনের সংবাদ পেয়ে তার বাসায় উপস্থিত হয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সরাসরি নির্দেশনায় আমরা প্রবাস ফেরত অসুস্থ নুরুল আমিনকে দেখতে এসেছি, এবং তার পরিবারের জন্য মানবিক সাহায্য হিসাবে তাৎক্ষনিকভাবে ১০০ কেজি চাউল, প্রায় ১ মাসের মুদি বাজার ও তার হাতে চিকিৎসার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা উপহার হিসেবে প্রদান করেছি। ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে বলে জানান ইউএনও মিল্টন বিশ্বাষ।এদিকে রেমিটেন্স যোদ্ধা নুরুল আমিনের অসুস্থতার খবরে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাষ, তাৎক্ষনিকভাবে মানবিক সাহায্য নিয়ে তার বাড়িতে এসে উপহার সামগ্রী প্রদান করে যে মহানুভব মানবিকতা প্রদর্শন করেছেন তার জন্য অসুস্থ নুরুল আমিনের পরিবার, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনও সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।