মোহাম্মদ সায়মুন চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি।
ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করলেন বাঁশখালী চাঁপাছড়ি গ্রামের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গবেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী। তিনি বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনে ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক জনপ্রিয় শিক্ষক ও উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। বাঁশখালীর এই কৃতী সন্তান প্রফেসর ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী এবার যোগ দিলেন দেশের স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার হিসেবে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতির এক নিয়োগ আদেশের প্রেক্ষিতে আগামী ৪ বছরের জন্য তিনি গত ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ইং উক্ত পদে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করেন। প্রফেসর ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ৪ নং বাহারছড়া ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চাঁপাছড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রফেসর সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য গবেষণা জার্নালে তাঁর অনেকগুলো প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভের গৌরব অর্জন করেন।প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এসবের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ও এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি, চবি ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার, বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) প্রতিষ্ঠাতা সিন্ডিকেট সদস্য, বাঁশখালী সমিতি চট্টগ্রামের উপদেষ্টা, পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের হীরকজয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান সহ এসব উল্লেখযোগ্য পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বাঁশখালী ও বাঁশখালীবাসীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঁশখালীর শিক্ষার্থীদের যেকোন সমস্যায় তিনি অভিভাবক হিসেবে পাশে থেকেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা চালিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাঁশখালীর অনেক শিক্ষার্থীকে তিনি আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করতেন। তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা এবং সুপারিশে বাঁশখালীর অনেক শিক্ষিত তরুণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি লাভ করেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাঁশখালীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।বিশেষ করে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন ও বাঁশখালী উপকূলে গার্মেন্টস পল্লী গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাবি জানান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। প্রথম সন্তান মেহসান আহমেদ চৌধুরী একটি স্বনামধন্য কোম্পানির আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। দ্বিতীয় সন্তান সিলমা সুবাহ চৌধুরী পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের লেকচারার, তাঁর স্বামী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সহকারী জজ হিসেবে কুমিল্লায় কর্মরত আছেন। এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায় তাঁর এসব অর্জনে সবাই খুশি এবং তাঁকে জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।