আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>> স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মোতালেবের সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বেঈমান, মোনাফেক, খন্দকার মোস্তাকের অনুসারী উল্লেখ করে উসকানিমূলক, মানহানিকর, চরিত্রহরণকারী ও শান্তি-শৃংখলা বিঘ্ন সৃষ্ঠিকারী বক্তব্য রেখে গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ১১(ক) ও ১২নং বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগকারী সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব।
১৭ ডিসেম্বর রোবববার প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাঁছে নৌকার প্রার্থীর আচরনবিধি লঙ্ঘনের সুনিদ্দৃষ্ঠ এ অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আবদুল মোতালেব।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ডঃ আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী নিজে এবং তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশে তাঁর সমর্থকরা তফসিল ঘোষনার পর থেকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে এবং আচার আচরনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ ডিসেম্বর লোহাগাড়া উপজেলার বার আউলিয়া কলেজের পূর্ব পার্শ্বে বাঙ্গালিয়ানা নামক একটি রেস্টুরেন্টে এক সভায় বক্তব্য রাখার সময় অভিযোগকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মোতালেব ও তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বেঈমান, মোনাফেক, খন্দকার মোস্তাকের অনুসারী উল্লেখ করে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও চরিত্রহরণকারী বক্তব্য রেখে শান্তি শৃংখলায় বিঘ্ন সৃষ্ঠি এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মত বক্তব্য দেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যে জনসভায় লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম ইউনুস, প্যানেল চেয়ারম্যান আক্কাস ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল নবীও আচরনবিধি বহির্ভূত বক্তব্য রেখেছেন বলে জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগকারী মোতালেব তাঁর অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন যে, আগেও নির্বাচন কমিশন অভিযুক্ত নৌকার প্রার্থী ডঃ নদভীকে তলব করে সতর্ক করেছিল, তারপরও এহেন বেআইনী নেতবাচক কর্মকাণ্ড বন্ধে তিনি নিজে যেমন সতর্ক হননি, তাঁর অনুসারীদেরও সতর্ক করছেননা, যা নির্বাচনী আচরন বিধিমালা লংঘনের সুস্পষ্ঠ লক্ষন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৬ ডিসেম্বর সাতকানিয়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ড. নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী ও লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একেএম আসিফুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন পূর্ব বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে প্রত্যক্ষ সমর্থন ও উৎসাহ প্রদানের জন্য অভিযুক্ত প্রার্থী নদভীর নেতৃত্বে মিছিলে প্রতীকের নাম উল্লেখ করে স্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে আচরনবিধির সুষ্পষ্ঠ লংঘন করেছেন। এরকম বিধি বহির্ভুত কর্মকাণ্ড নির্বাচনের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ডঃ নদভীর কাঁছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট উল্লেখ করে অভিযোগে বর্নিত বাঙালিয়ানা রেস্টুরেন্টটি চিনিনা বলেও জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ডঃ নদভীর বিরোদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ আমরা পর্যোলোচনা করে দেখে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইলেক্ট্রোরাল কমিটির নিকট পাঠিয়ে দিয়েছি। ইলোক্টোর্যাল কমিটির নিঁখুত পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হলে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।