মৃত্যু রক্তপাত ধ্বংস নির্মূল নিধন আগ্রাসন অবজ্ঞা দখলদারিত্ব ত্রাসের রাজত্ব গুন্ডামি খবরদারি হিংসা বিদ্বেষ পাপাচার ইত্যাদি অপকর্ম ইসরায়েলের বড় পুঁজি।
মিডিয়া জগতের উদ্ধৃতিতে গত উনপঞ্চাশ দিনের যুদ্ধে শত্রু সেনারা হামাস পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি।
সুত্রের বরাতে জানা যায় হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের আলোচিত অত্যাধুনিক সমর ইকুয়িপমেন্টস মারকাভা ট্যাংক ও অনান্য সামরিক যান ধ্বংস করেছে এ পর্যন্ত চারশতের কাছাকাছি ,এই সমীক্ষায় প্রতিটি সামরিক যান বা ট্যাংকে নুন্যতম তিনজন করে সৈনিক মারা গেলে সে হিসাবে অন্তত হাজারের অধিক ইসরায়েলি সেনা হামাসের হাতে খতম হয়েছে।
অল্প কয়দিন যুদ্ধবিরতির পর আবার দ্বিতীয় পর্বের যুদ্ধ শুরু,নেতা নেয়াহুর হুংকারে গাজায় আবার ইসরায়েলি তান্ডব শুরুর এ ক’দিনেই আট শতাধিক ফিলিস্তিনি শিশু ও সাধারণ নাগরিকের উপর উপর্যুপরি হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে শত্রু সেনারা।
দ্বিতীয় পর্বের যুদ্ধে ফিরে আসা বা হামাস নির্মুলের তার দম্ভের হুংকারে সেনাদের গাজা আক্রমণে একজন যোদ্ধাও দেশে ফিরতে সক্ষম হবে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। এর থেকে মানুষ নিশ্চিত হতে পারলো ফিলিস্তিনের সাথে যুদ্ধে জড়ানো এবং দ্বিতীয় দপে গাজা প্রবেশ করা ইসরায়েলের কপালে দ্বিতীয় মহা বিপদ সংকেত।
এতে করে দেখা যাবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শেষমেশ ইসরায়েল পাহারা দেওয়ার জন্য চৌকিদার পর্যন্ত বেঁচে থাকা দায় হবে। কারণ মানুষ ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে ইসরায়েলের সেনারা প্রকৃতার্থে রণক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত যোদ্ধা নয়।
আকাশ পথে বিমান যুদ্ধ ব্যতিত সম্মুখ বা যুদ্ধের ময়দানে ইসরায়েলিদের লজ্জাজনক ভরাডুবি ঘটতে যাচ্ছে এটা অনেকটা নিশ্চিত।এ ছাড়া তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজের আইরন ডোম থেকে ছুঁড়া ক্ষেপনাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর বিপরীতে গিয়ে ইসরায়েলের ভূমিতে আঘাত হানছে।ভার্চুয়াল যুদ্ধেও ইসরায়েলের ত্রাহিত্রাহি অবস্থা।কেননা এই যুদ্ধে রাক্ষসী আচরণে দুনিয়ার মানুষ ইসরায়েলের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ ও নারাজ।
তাছাড়া বিশ্বের খলনায়ক নেতা নেয়াহু যুদ্ধে জেতার লক্ষ্মণ অত্যন্ত ক্ষীণ,যেহেতু পুরো গাজাকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারলেই জাহেনবাদ ইহুদি নেতা নেয়াহুর লক্ষ্য উদ্দেশ্য গাজায় কোন মানুষ বা স্থাপনা থাকা চায়না। তাইএই যুদ্ধে তাদের ভরাডুবি আচঁ করতে পেরে আকাশ পথে ধ্বংসজ্ঞ ইসরায়েলিরা আরও বেশি পৈশাচিক তান্ডবে মেতে উঠেছে।
অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে যুগযুগান্তর জুলুমি দখলদার ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিগৃহীত ফিলিস্তিনিদের লাশের মিছিল আর অসহায়ত্বের প্রলাপ ব্যতিত অন্য কোন বিকল্প ছিলোনা ফিলিস্তিনিদের জীবনে।
হাত উঁচিয়ে লাঠিসোঁটা পাথরের টুকরো ও ইট পাটকেল ছুঁড়া নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বহির্বিশ্বের কাছে আরবের সন্ত্রাসী বানিয়ে রাখা হয়েছে সারাজীবন।
এবার বিশ্ব জানতে পারলেন প্রকৃত সন্ত্রাসী ফিলিস্তিন নাকি ইসরায়েল।
আজকের বাস্তবতায় চমকে দেওয়া এই দৃশ্যপটে বিস্ময়কর ইতিহাস সৃষ্টির নায়ক হিসাবে অবতীর্ণ হতে চলেছে ফিলিস্তিনের হামাস।
প্রতিবাদের জন্য ফিলিস্তিনির হাতে আগের সেই পাথর ও লাঠির বদলে নিজের তৈরী ইয়াসিন রকেট ১০৫ আরপিজি।
যেই রকেটের টুকাতে শতশত ইসরায়েলের সামরিক যান নিমিষে আগুনের ফুলকিতে পরিনত হতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকের মতে হামাসকে নির্মূল করা দূরের কথা দূর্বল করাও অসম্ভব,যেহেতু বর্তমান বিশ্বে আলোচিত চৌকস সেনা ইউনিটের নাম হামাস।
ইরাক আফগান সিরিয়া লিবিয়ার পরিনতির কথা ভেবে আরব জনগণ হামাসকে নিয়ে গর্ব করতে পারে,আর আরব জনগণও আগের মত ভুলে পা বাড়াতে চায়না।অদূর ভবিষ্যতে হামাসের এই শক্তিই হতে পারে আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সামরিক সেনা শক্তি ভান্ডার।
তাছাড়া এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আরবের গণজাগরণকে আর কিছুতে রোধ করা সম্ভব না।
প্রযুক্তি শিল্পকলা সব কিছুই মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসাসের যুদ্ধকৌশলের কাছে।
হামাস বাহিনীর পক্ষে ইরানের পৃষ্টপোষকতা সৌদি আরবের সমর্থন,তুরস্কের হুংকার প্রতিবাদ, ফয়সালার জন্য কাতার,ঠিক এভাবেই গড়ে উঠতে পারে নতুন এক পরাশক্তির আরব বিশ্ব।
শুধু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে নয় পৃথিবীর সমস্ত সেনাদের আইকন এই হামাস হিজুবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি সেনারা।
পরাধীনতার শেকল স্বাধীনতাকামীদের কাছে অতি তুচ্ছ আজ একথা আবার প্রমাণিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের বুঝার আর বাকি নেই এই যুদ্ধে ইসরায়েলের ইতিমধ্যেই হার হয়েছে।মনস্তাতিক লাইভ সাপোর্টে নেতা নেয়াহুর ইহুদি মুল্লুক ইসরায়েল।
হয়তো অনিবার্য ব্যর্থতা জেনে গাজায় অবস্থানরত সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ অনুভব করে দ্বিতীয় পর্বের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে ইসরায়েল।
এরি মধ্যে উপুর্যুপরি বিমান হামলায় পুরো গাজার মাটিতে কোন স্থাপনা বাকি রাখেনি।
গাজার সবকিছু তচনচ করার অভিযান শেষে এখন পলায়নের পথ ধরেছে ইহাই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কারণ ইসরায়েলি শত্রু সেনারা ইতিমধ্যে উত্তর গাজা ছেড়ে পলায়ন শুরু করেছে।
কবি শাহাদাত হোসেন তালুকদার
সাহিত্য সম্পাদক
বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন।