কলমেঃ-নাজিম উদ্দিন >>>
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)
আমি নাজিম উদ্দিন আমার বাড়ি লালমনিরহাট জেলা সদর। একদিন আমি জেলাপরিষদ থেকে বিডিআর গেট যাওয়ার জন্য একটি অটোতে উঠে বসি যাত্রী আমি একা। অটোচালক ছিল এক সুদর্শন যুবক বয়স ২৫-২৬ শীতের রাত অনুমানিক নয়টা ছেলেটা আমার সাথে বেশ শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছিল। আমি আমার আগ্রহবশত: ছেলেটাকে তার বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করায় সে বলল তার বাড়ি ফুল গাছ তারা তিন ভাই সকলেই বিএ পাস করেছে, তার বাবা বহু কষ্ট করে তাদেরকে বিএ পাস করান তাদের বাবা পেশায় কৃষক।তাদের বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেরা লেখাপড়া করে একদিন অনেক বড় হবে তখন আর তাকে মাঠে কাজ করতে হবে না।ছেলেটা হঠাৎ উচ্চ স্বরে ক্ষোভ মিশ্রিত কন্ঠে বলতে শুরু করলো, আচ্ছা বলেন তো আঙ্কেল আমার বাবা যে এত কষ্ট করে আমাদের তিন ভাইকে লেখাপড়া শিখালো এবং আমরা এত কষ্ট করে যে লেখাপড়া শিখলাম এতে আমাদের কি লাভ হল। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন তোমরা চাকরির জন্য চেষ্টা করো নি, ছেলেটি বলল আমরা সকলেই চাকরির জন্য চেষ্টা করেছি কিন্তু পাইনি।
বিশ্বাস করেন আঙ্কেল আমি খুব ভালো ছাত্র ছিলাম আমার রেজাল্ট ও ভালো তিন তিনবার ভাইবা থেকে ফেরত এসেছি কোন এক অদৃশ্য কারণে আমার চাকরি হয়নি আপনি তো সবই বোঝেন কেন চাকরি হয়নি।
এই দুঃখে আমি আর চাকরির জন্য দরখাস্ত করিনি সিদ্ধান্ত নেই আমি একটি অটো কিনব এবং ব্যবসা করব কারণ চাকরি আমাদের ভাগ্যে নেই। জানেন আঙ্কেল আমি এর মধ্যে বিয়ে করেছি আমার দুটো ছেলে এবং আমি প্রতিজ্ঞা করেছি আমার ছেলেদেরকে শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াবো তার বেশি নয়।
তাদেরকে হাতের কাজ শেখাবো তারা যেন কিছু করে খেতে পারে। আমাদের তো আর মামা খালু নেই তাই শুধু শুধু লেখাপড়া করে সময় নষ্ট করে লাভ কি? আমি আড় চোখে দেখতে পেলাম তার চোখ ভিজে গেছে সে লুকিয়ে তার চোখের পানি মোছার চেষ্টা করছে। এবং কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে লাগল আঙ্কেল আমার এখন সরকারি চাকরি করার কথা ছিল কিন্তু কিছু অসৎ লোকের কারণে বর্তমানে আমি অটো ড্রাইভার। ছেলেটির কথা গুলো শুনে আমি ভাবতে লাগলাম এসব দেখার জন্যই কি আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম।এখন আপনারাই বলেন ওই ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়ার মত আমার মুখে কি কোন ভাষা আছে।
(আসুন আমরা সকলেই সৎ ভাবে চলি এবং সোনার বাংলা গরি)।