আনোয়ার হোসেন-কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ
এখনো শেষ হয়নি শরতের বন্দনা।শীত আসতেও ডের বাকি।তার আগেই উত্তরের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কুয়াশা মাখা ভোর আর রবির উষার আলোয় ঝিকিয়ে তোলা দুর্বাঘাসে জমানো শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে আগাম শীতের বারতা।গেল ভাদ্র মাস জুড়ে ছিল প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরম।এতে ভোগিয়ে তুলেছিল জনজীবনকে।ভাদ্র পেরিয়ে আশ্বিনের শুরু থেকে কখনো ভারি,কখনো হালকা থেকে ইলশে গুড়ি বৃষ্টিপাত।এতে উপজেলার প্রকৃতি ধুয়ে-মুছে এখন নির্মল পরিবেশ।এমন প্রকৃতি উস্কে দিচ্ছে শীতের আগাম পদধ্বনি।কমছে দিনের তাপমাত্রা।দুপুরের মৃদু রোদ।বইছে উত্তরের হিমের বাতাস।সন্ধা নামার সঙ্গে সঙ্গে গা শিন শিন করছে।ভোরে এর মাত্রা আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে।ফ্যান,এসি গুটি নিচ্ছে অনেকে।রাতের সিথানে চাপানো হচ্ছে হালকা কাঁথা,কম্বল।শিশু ও বৃদ্ধরা গায়ে জড়াচ্ছে শীতের পোষাক।এমন দৃশ্য দেখে বোধ হয় এই বুঝি দুয়ারে আসছে শীত। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়,পূর্ব দিগন্তে উদিত সূর্য কুয়াশার চাদর ভেদ করা প্রস্ফুটিত রক্তিম আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে।এ আভায় ধানে শীষ ও দুর্বাঘাসের ডগার উপর জমানো বিন্দু বিন্দু শিশির কণা মুক্তার মত ঝলমল করছে।সন্ধা নামার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার আবছা আবছা আস্তরণে ঢাকা পড়ছে গ্রামীণ মাঠ-প্রান্তর।ভোরের রাতে ঘরের চালে ও পত্রপল্লবে টাপুর টুপুর করে ঝরছে শিশির কনা।শীতের এ আমেজে আগাম আলু,শাকসবজিসহ অন্যন্য রবি ফসল রোপণ ও আগাম আমন ধান কর্তনের মহোৎসব চলছে।এসময় কথা হয় ভোরের মুসল্লী বাহাগিলী ইউপির উত্তর দুরাকুটি পশ্চিম পাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যাক্তি কেচুয়া মামুদ এর সাথে।তিনি বলেন,সাধারনত শরতে শীত ও শিশির বিন্দু পড়তে কম দেখা যায়।এবার একটু আগাম শীতের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।এমনটা হবার কথা না থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনে এমনটা হচ্ছে।যাই হোক এ সময় শিশির বিন্দু ফসলের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন,বাংলা পঞ্জিকা মতে শরৎ ঋতু প্রায় শেষ পর্যায়ে।কার্তিক কড়া নাড়ছে দুয়ারে।কার্তিকে শুরু হবে হেমন্তের পথ চলা।হেমন্তের পরে শীত ঋতু আসার নিয়ম।কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালিপনায় এবার হেমন্তেই শীতের আগমন ঘটবে এমনটাই মনে হচ্ছে।

