বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গিতে চীনের বুঝা উচিৎ ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভারতের নাভি,বাংলাদেশ চাইলেও সম্ভব না চীনকে বুকে নেবে ভারতকে তুচ্ছ ভেবে ফেলে দিবে, ব্যবসায়িক কারণ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন রাজনৈতিক বিষয়ে চীনের নাক গলানো বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ বটে,কিন্তু এতে চীনের আহামরি কোন ফায়দার সম্ভাবনা নাই।বরং ইহা সামগ্রিক ভাবে এশিয়ার শক্ত অবস্থানের উপর আমেরিকা কর্তৃক অনধিকারচর্চা,এশিয়ার বিশ্ব রাজনৈতিক অবস্থান দূর্বল হলে তার জন্য একদিন চীনকেও মাশুল গুনতে হতে পারে, কাজেই বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন এশিয়ার দেশ সমূহের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের বার্তা বহন করে।একথা মানতে বাধ্য চীনের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চীন একটি সফল ব্যবসায়ী রাষ্ট্র,সূলভ মূল্য ও সহজ পদ্ধতিতে কম মুনাফার বানিজ্য ব্যবস্থায় পৃথিবীর বুকে চীনের এখন টপ লেভেলে অবস্থান।মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে চীন ব্যবসায়িক সহজ অনুপ্রবেশ নিশ্চিত করেছেন সেই ৯০ দশকের শেষের দিকে,ইরাক ও কুয়েত দ্বন্দ্বের সুযোগে চীন মধ্যপ্রাচ্যে জাপান ও ভারতের বানিজ্য বাজার খেয়েছে রাতারাতি,একই পণ্যটি এক চতুর্থাংশ মূল্যে পাওয়া যায় চীনের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী,বাজার দর তারতম্যে চীন সব সময় বিশ্বে ব্যবসায়িক নেতৃত্বে এগিয়ে থাকার কারণে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করতে সমান তালে এগিয়ে চলেছে,তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে চীনকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নাই।সামগ্রিক বিবেচনায় ভারত ও চীনের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য সত্যিকারের আস্থাভাজন বন্ধু রাষ্ট্র কে ? ভাষা সংস্কৃতি কৃষ্টি ও স্বভাবজাত কারণে ভারত বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক এইসব বাস্তবতা বিচার বিশ্লেষণে পরিশেষে ভারত ছাড়া আমাদের সুখ দুঃখের সারথির জন্য বিশ্বস্ত বন্ধু কিংবা আপন চীন না-কি ভারত ?অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপটঃ
২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরনার্থী অনুপ্রবেশের পর এই ইস্যু সমাধানে চীনের সদিচ্ছা থাকলে উহা যেকোন সময় সহজে সমাধান করা চীনের জন্য কঠিন কাজ ছিলোনা,কিন্তু দেখা গেল রোহিঙ্গা ইস্যুতে চিনের আমতা দায়সারা লেজুড় মনোভাব,এই ব্যাপারে চীনের ভুমিকা কি ইহা বুঝতে আরও কিছু সময়ের দরকার।চীন মনে করে প্রতিবেশী দূর্বল হলেই তাদের লাভ,পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাক তার নিজের মতলব ঠিক থাক,তাছাড়া চিনের বোধ উদয় হওয়া উচিৎ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনন্য উদাহরণ।বাংলাদেশের এসকল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় ভারতের সন্তুষ্টি থাকলেও কিন্তু চীনের খামখেয়ালী নজর।
ভৌগোলিক কারণে ভারত মনে করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের শান্তি শৃঙ্খলা ও স্বার্থ রক্ষা করা ইহা প্রতিবেশী হিসাবে তাদের দ্বায়িত্বে পড়ে,ভারত বুঝেছেন বাংলাদেশের শান্তি ভারতের শান্তি বাংলাদেশের উন্নতি ভারতের অগ্রগতি,তাই বাংলাদেশের জন্য একজন মেধাবী রাষ্ট্রনায়ক দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সবসময় দরকার।
মোড়ল রাষ্ট্র হয়েও ভারত চাইনা অন্তত বাংলাদেশের সাথে তাদের কোন সাংঘর্ষিক ব্যাপার স্যাপার থাকুক,
আমেরিকা মনে করেন বাংলাদেশের উন্নতি অগ্রগতি মানে ভারতের কোমর শক্ত হওয়া।বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আপাতত চীন ও আমেরিকার এক নীতির ইঙ্গিত একেবারে স্পষ্ট।আমেরিকার উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আর আগাতে দেয়া যায়না চীন চীনা বুদ্ধিতে আর আমেরিকা ঢাকঢোল পিটিয়ে মাঠে এই হলো বর্তমান বাস্তবতা।
সাম্প্রতি সেল্ফি নীতিতে আমরা যেভাবে উল্লাসে ফেটে পড়েছিলাম তা কই ? আসলে পররাষ্ট্র নীতি হচ্ছে যার যার দেশের আত্ম-স্বার্থ নিয়ে ভাবা ও রক্ষা করা একথা আমাদের বুঝতে হবে।অন্যদিকে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক গুরুত্ব আগের মত অবস্থানে নেই,আরব মুল্লুক আমেরিকাকে আর তেমন গ্রহণ করছেন না,এতে করে ইসরায়েল অনেকটা কোনঠাসা।
বর্তমানে সৌদিসহ গোটা আরব মুল্লুক বিশ্বের রাজনৈতিক অঙনে আগের চেয়ে অনেক পাকাপোক্ত,
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার বিদায় ঘন্টা ইহাতে অনেকটা বেদিশাগ্রস্থ যুক্তরাষ্ট্র।পাদটীকাঃ
১২ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সরকার আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন মোকাবেলা করে ক্ষমতায় আসা অনেকটা কঠিন ও কষ্টের হলেও শেষ হাসিটি হবে শেখ হাসিনার।
২৮/০৯/২০২৩ ইং
লেখক শাহাদাত হোসেন তালুকদার
কবি ও কলামিস্ট