আব্দুল্লাহ আল মারুফ নিজস্ব প্রতিবেদক >>>
টানা তিনদিন পানিবন্দি থাকার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ,চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া লোহাগাড়া উপজেলার বন্যায় দুর্গত মানুষ।সাতকানিয়া সদরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের ৪৫ টি গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার বন্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।বন্যা কবলিত এলাকায় এরি মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট ৷ তবে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খাদ্যসহ মানবিক সহায়তা নিয়ে নিরলসভাবে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা সদ্য যোগদানকৃত সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মিল্টন বিশ্বাস ৷তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাবার বিতরণ করছেন। দুর্গত মানুষের জন্য একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন কর্ম তৎপরতা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।এদিকে গত শুক্রবার (১১ আগস্ট) সাতকানিয়া লোহাগাড়া বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও ,প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান ১১ আগস্ট দুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং সাতকানিয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।তিনি বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও দুর্গত এলাকায় মানুষ চুলা জ্বালতে পারছে না। ইউএনও মিল্টন বিশ্বাস ১৭ আগস্ট ২০২৩ গণমাধ্যমকে জানান জেলা প্রশাসন থেকে ৮৫ মেট্রিক টন চাল আর সাড়ে তিন লাখ টাকা,১০ জন নিহতের জন্য আজকে ২৫০০০০/–বরাদ্দ এসেছে ৷এস আলম গ্রুপস ৫০৩৯ প্যাকেট,ফারাজ করিম-১৫০০ প্যাকেট দিয়েছেন ৷বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, এসব বরাদ্দের বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।উপজেলাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কেমন হয়েছে এই প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকে ইউএনও জানান,অতি বৃষ্টির কারণে ,
,বাস গৃহ সম্পূর্ণ ও আংশিক ফসলী মাঠ ২১৬২.৫ হেক্টর গবাদি পশু-৬ টা মুরগী-১৫০০ গভীর অগভীর নলকূল-৬০০০,পুকুর-৩০০০ রাস্ত’-৪১ কি.মি বাঁধ-২.৫ কি.মি রাস্তা ও অবকাঠামোগত ক্ষতি ৬২৯৪ টি ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান আড়াই কোটি টাকা প্রাথমিক সংশ্লিষ্ট উপজেলার সরকারি দফতরের তথ্য অনুযায়ী এই তথ্য উঠে এসেছে ৷আমরা সাতকানিয়া প্রাই বন্যায় দুর্গত মানুষের মাঝে নগদ অর্থ শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করেছি।এখনো আমাদের কার্যক্রম চলমান বন্যা দুর্গত পরিস্থিতি যতদিন স্বাভাবিক হবে না ততদিন আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে৷এছাড়াও দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নৌবাহিনী,পুলিশ,বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাধ্যমত এগিয়ে এসেছে।আশা করছি আমরা এ মানবিক সংকট মোকাবিলা করতে পারবো বলেন।বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মৎস্যঘের, ক্ষেত খামারসহ উপজেলার যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ইউএনও।বিভিন্ন সাধারণ মানুষ ও জন প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায় ,বর্তমান ইউএনও মিল্টন বিশ্বাস,বন্যার ভয়াবহ তাণ্ডবে লন্ড ভন্ড সাতকানিয়ার মানুষের কল্যাণে স্বচ্ছ ভূমিকা পালন করেছেন,যাহা কল্পনার বাইরে,ইউএনর সাথে সাধারণ মানুষ যোগাযোগ ও যে কেউ ফোন করলে কল রিসিভ করে কথা বলে ,এবং সঠিক পরামর্শ প্রদান করেন, ওনার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলে দ্রুত রেসপন্স করে ,যাহা খুবই প্রশংসনীয়
তিনি বলেন,বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও দুর্গত এলাকায় মানুষ চুলা জ্বালতে পারছে না। তাছাড়া সবার ঘরে চাল চুলো থাকলেও তা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি অন্তত সবার মুখে কোনো না কোনো খাবার তুলে দিতে।ইউএনও বলেন, পানি নেমে যাওয়ায় কিছু কিছু মানুষ বাড়ি ঘরে ফিরলেও রান্না করতে পারছেন না। যে কারণে খাবারের সংকট আছে। সুপেয় পানিরও সংকট আছে। আমরা সেই সংকট মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি।সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ইউনিয়নের বাসিন্দা সমাজকর্মী নাসরিন সুলতানা (৩৫) জানান,আমি যতটুকু জেনেছি,বন্যা কবলিত হওয়ার পর থেকে তিনি (ইউএনও) নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে এ বাড়ি, ওবাড়ি, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে গেছেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে গেছেন। যতটুকু পেরেছেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দুর্গত মানুষের দিকে। এটি আমাদের জন্য আশা ব্যঞ্জক।তার এমন আন্তরিকতা দেখে সত্যিই আমরা দুর্ভোগের কথা ভুলে গেছি।এলাকার মানুষের এমন দুর্যোগে ইউএনওর নিরলস প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল