রিপোর্ট কামরুল ইসলাম মোহন >>>
একটি মানবাধিকার সংস্থার খপ্পরে পরে সর্বসান্ত হয়ে গেছেন ঢাকার হাজী রফেজ হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ী। তাকে ঐ মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান বিভিন্ন মামলার ভয় ও শারীরিক নির্যাতন করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাজী রফেজ হাওলাদার শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত শাহবাগ থানায় কর্মরত এস আই ইকবালকে থানা থেকে লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রমতে জানা যায়, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী লায়ন এইচ এম ইব্রাহিম ভূঁইয়া ও শাহবাগ থানার এস আই ইকবালের জোগসাজসে একটি নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে হাজী রফেজ হাওলাদারের কাছ থেকে ১১ লক্ষ টাকা ও লাখ লাখ টাকার স্বর্ণলংকার কৌশলে হাতিয়ে নেয় ঐ চক্রটি। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, হাজী রফেজ হাওলাদারের পুত্র মোঃ ইউসুফ আলী গত ১০ ফেব্রুয়ারি ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক পিতা: মৃত আলমগীর হোসেন ও মাতা: নুরুন নাহারের কন্যা নাহিয়ান আক্তার সওদা (১৮) কে বিবাহ করেন। ইউসুফ আলীর স্ত্রী মাত্র ১ বার স্বামীর বাড়ীতে আসেন। যাওয়ার সময় কৌশলে বিবাহের সময় দেয়া সকল কাপড় চোপড় ও শরীরে থাকা ৭.০৫ গ্রাম একটি গলার হার স্বর্ণের ৬ আনার ১টি আংটি ও স্বর্ণের একটি নাকফুল পরিধান অবস্থায় ও তাকে শাশুরীর দেয়া ০.৯ গ্রাম এক জোড়া হাতের বালা স্বর্ণের ৪.০৮ গ্রাম এক জোড়া ছিঃরিং স্বর্ণের ১.৯০ গ্রাম ও ১.৪৩ গ্রাম আরও ২টি আংটি নিয়ে যায়। বার বার তাকে স্বামী ইউসুফ আলী আনতে গেলেও নানা ছলচাতুরী করে তার সাথে আসে না। বরং ভাড়াটিয়া মাস্তান এনে জামাই ইউসুফ আলীকে নানাভাবে হয়রানী করে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গত ২৮/০৪/২০২৩ তারিখে ডিএমপির সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যার নং ১০৮৬।
এই দিকে মেয়ের মা নুরুন নাহার তার বেয়াই হাজী রফেজ হাওলাদারকে বার বার ফোন দিয়ে বলে মেয়েকে ঈদের বাজার করে দিতে এবং বিগত দিনে যে সমস্যা হয়েছে তা এক জায়গায় বসে সমাধান করতে হবে। নুরুন নাহার তার বেয়াইকে বলে পল্টনে তার এক মামাতো ভাইয়ের অফিস আছে সেখানে বসে সকল সমস্যার সমাধান হবে। নুরুন নাহার বলেন, মেয়ে কেন আপনাদের বাসায় যায়না এ বিষয়ে ওখানে সমাধান হবে। এই কথা শুনে হাজী রফেজ হাওলাদার বেয়াইন নুরুন নাহারের কথামত পল্টনে আসে কিন্তু বেয়াইন নুরুন নাহার তাকে কোন অফিসে না নিয়ে আবাসিক হোটেল নূরজাহানে নিয়ে ৫০৫নং কক্ষে আটকায়। নুরুন নাহার পূর্ব পরিকল্পনা করে ঐ মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যানকে বলে তার বেয়াই অনেক টাকার মালিক তার কাছ থেকে কৌশলে টাকা আদায় করতে হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান লায়ন এইচ এম ইব্রাহীম ভূঁইয়া এস আই ইকবালকে ডেকে নিয়ে হোটেল নুর জাহানে যায়। গিয়েই হাজী রফেজকে এলোপাথারী মারধোর করে। শুধু তাই নয়, তার পরিহিত লুঙ্গী খুলে তাকে তাওয়ালে পড়াইয়া বিভিন্ন এ্যাংগেলে ছবি তোলে এবং সাজানো আপত্তিকর অবস্থা বানিয়ে ছবি তোলে ও ভিডিও করে। এই সব ঘটনা ঐ মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান ঘটায় গত ১৯ এপ্রিল। ঐ সাজানো ঘটনা ঘটিয়ে ইব্রাহীম ভূঁইয়া, নুরুন নাহার ও এস আই ইকবাল হাজী রফেজকে জিম্মি করে ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়ে হাজী রফেজ জানায়, ঘটনার মূল নাটের গুরু মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহীম ভূঁইয়া। সে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি চক্রের মাধ্যমে এই রকম সহজ সরল মানুষকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে। হাজী রফেজ এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।