এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় অফিস চলাকালে এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বন্দরের কিছু কর্মচারী ভবন চত্বরে মিছিল করেন। এ সময় তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯’ ও ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১’সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার একই সময়ে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল উভয় কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দরের কারশেড ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতারা এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।এদিন একই ইস্যুতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)। সংগঠনের নেতারা বলেন, পর্যাপ্ত দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। পাশাপাশি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।











মন্তব্য