মুরাদুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি>>> কুড়িগ্রামেের
রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরগুলোতে মহিষ লালন পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন খামারিরা।মহিষের দুধ ও দই এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিষ পালনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন চরের দুস্থ-অভাবী মানুষেরা।এমনই একটি চর এর নাম ‘চর ভেলামারি’। উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২০ মাইল নৌ পথে পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এই চরে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল চরের মানুষজন মহিষের পরিচর্যায় ব্যস্ত।পুরুষরা মহিষ কে নদীতে গোসল করাচ্ছেন আর মহিলারা দিচ্ছেন খাবার।আমিনা বেগম নামের এমন একজন দুঃস্থ মহিলা সাথে এই প্রতিবেদকের কথা বলার সময় জানা গেল,তিনি স্বামী সন্তানহারা,পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ নেই।জমি জমা না থাকায় তাই বেছে নিয়েছেন মহিষ পালন।বর্তমানে তার তিনটি মহিষ রয়েছে, যার এক একটি গড়ে ১০ থেকে ১৫ লিটার দুধ দেয়।তিনি নিজেই এই দুধ থেকে দই তৈরি করেন এবং স্থানীয় বাজারে সেই দই বিক্রি করেই চলে তার সংসার।কদ বানু নামের ঐ খামারি আরো বলেন আমাদের এই চরে প্রায় এক হাজার মহিষ পালন করে।খামারীরা জানান,চরের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা ঘাস খায় বলে মহিষ পালন করতে বাড়তি কোন খাবার খরচ হয় না। এছাড়া মহিষ এর রোগবালাইও কম হয়।নিয়মিত ভ্যাকসিন ও কৃমি নাশক খাওয়ালে দ্রুত বেড়ে ওঠে মহিষ।ফলে অল্প খরচে মহিষ লালন পালন করা যায় এবং লাভ বেশি হয়।রাজীবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন আগে পর্যাপ্ত ষাঁড় না থাকায় এ অঞ্চলের মহিষের প্রজননে সমস্যা ছিল।কিন্তু বর্তমানে,মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজনন করানো হয়,ফলে মহিষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে শ্বেত বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।এ উপলক্ষে প্রত্যন্ত চরে নিয়মিত ফ্রি ভেটেরিনারী মেডিকেল টিম ও ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রাণী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।চলাঞ্চলের এই মানুষগুলো মহিষ লালন পালন করে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে এই বাস্তবতায় এখানকার খামারিদের দাবি চরাঞ্চলে উৎপাদিত দুধগুলোকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রির জন্য এখানে একটি মিল্ক চিলিং সেন্টার স্থাপন করা হলে খামারীরা আরো লাভবান হবেন।











মন্তব্য