সোহেল রানা,তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধি>>>রাজশাহীর তানোরে যুবলীগকর্মী জিয়ারুল ইসলাম (৩৬) হত্যা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।এর মধ্যে একজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যও রয়েছেন।তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জিয়াউর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন তানোরের লালপুর গ্রামের আবুল হাসান (৪২),একই গ্রামের হাকিম বাবু (৩৪),মো. সুফিয়ান (৩৬) এবং বিলশহর গ্রামের মো. শাহীন (২৫) ও মো. রাসেল (৩০)।তাঁরা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁদের মধ্যে আবুল হাসান তালন্দ ইউপির সদস্য।র্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে র্যাবের একটি দল ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে হাকিম বাবু ও সুফিয়ানকে গ্রেপ্তার করে।র্যাবের আরেকটি দল একই রাতে কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।র্যাব জানায়,কয়েক বছর আগে ইউপি সদস্য আবুল হাসান বিলশহর গ্রামের সুমি খাতুনকে বিয়ে করেন।এটি আবুল হাসানের দ্বিতীয় বিয়ে।এ বিয়ের আগে থেকেই সুমির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল জিয়ারুল ইসলামের।বিষয়টি ইউপি সদস্য আবুল হাসান বুঝতে পেরে জিয়ারুলকে সতর্ক করেন।পরে গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগ নিয়ে তাঁদের মধ্যে শত্রুতা বেড়ে যায়। সম্প্রতি হাসানের কীটনাশকের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।এ জন্য জিয়ারুলকেই সন্দেহ করছিলেন হাসান।এ নিয়ে মামলাও করেন তিনি।এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিয়ারুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ফেরার পথে জিয়ারুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জিয়ারুলের ভাই রবিউল ইসলাম (২৪) বাদী হয়ে তানোর থানায় হত্যা মামলা করেন।ঢাকা ও কক্সবাজার থেকে এ মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।এই পাঁচজন র্যাবের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।পরে আসামিদের তানোর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানিয়েছে র্যাব।এ হত্যাকাণ্ডের পরদিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নয়জন গ্রেপ্তার হলেন।মামলার এজাহারভুক্ত আরও ছয়জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।নিহত জিয়ারুল ইসলাম তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানীর চাচাতো ভাই।গোলাম রাব্বানী এবার সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুসারী গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য আবুল হাসান।জিয়ারুল খুনের পর গোলাম রাব্বানী দাবি করেন,নির্বাচনে জিয়ারুল তাঁর পক্ষে ছিলেন বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁকে হত্যা করেছেন।











মন্তব্য