এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার ছাড়া অন্যান্য সব নির্বাচনী সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পৌঁছে গেছে। আজ সোমবার প্রতিটি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।৪০ হাজারের বেশি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যঃচট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৪০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই তারা মাঠে নেমেছে। আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এদিকে চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকাসমূহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষে ৩১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিংয়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব মিলে চট্টগ্রামে ১৪২ জন জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থীঃচট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।ভোটকেন্দ্র ও ভোটার সংখ্যাঃচট্টগ্রামে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি এবং ভোটকক্ষ ১২ হাজার ১টি। এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রায় ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৬ শতাধিকঃত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ শতাধিক কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে ৩১০টি এবং জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রে থাকবে কতজন নিরাপত্তা সদস্যঃসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার-ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার-ভিডিপির সংখ্যা ১০ জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড থাকবে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র জারি অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে (জেলায়) প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২ জন পুলিশ (অস্ত্রসহ), ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার, সহকারী সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার/ সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, আনসার ১ জন, সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ এবং গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ।মেট্রোপলিটন এলাকার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ১ জন অস্ত্রসহ, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ১ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। মেট্রোপালিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে থাকবে পুলিশ ৪ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার ১ জন (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন।গতকাল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী চট্টগ্রাম-৬ এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি বেইজ ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।শেষ মুহূর্তে জমজমাট প্রচারণাঃভোটের আর মাত্র ৩ দিন বাকি থাকায় নগরীর অলিগলি থেকে গ্রামীণ জনপদে প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার পর সব ধরনের প্রচার বন্ধ হবে।নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল এবং আজ সোমবারের মধ্যে প্রায় সকল প্রার্থী প











মন্তব্য