আনোয়ার হোসেন-কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ
একসময় আজব শহর ঢাকার তিলোত্তমা রূপে অভিভূত হয়ে অশিক্ষিত সিনেমায় জনপ্রিয় দুই কণ্ঠশিল্পী খন্দকার ফারুক আহমেদ ও শাম্মী আকতার গেয়ে ছিলেন,ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে,আরে,লাল-লাল,নীল-নীল বাতি দেইখা নয়ন জুড়াইছে ঢাকা শহর আইসা আমার আশা ফুরাইছে, মনের আশা ফুরাইছে,তেল ছাড়া বাত্তি জ্বলে আজব এ শহরে মাটি ফাইটা বৃষ্টির পানি ঝরঝরাইয়া পড়ে রে ঝরঝরাইয়া পড়ে।সেই ঢাকা আর নয়,সেই তিলোত্তমা রুপে সেজেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা।বলা হচ্ছে এ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নবরূপে সাজা পানির ফোয়ারা আর তেল ছাড়া জ্বলে উঠা লাল-লাল,নীল-নীল বাত্তির এক রঙিনময় শহরের কথা।এ ফোয়ারা চত্বর নবরূপে সেজেছে হরেক রঙের পানির ঝর্না ধারায়।এ ঝর্না ধারার তলদেশ থেকে উপচে পড়া পানি ক্ষনে ক্ষনে রূপ বদলায়,কখনো সাদা-লাল-নীল,কখনো সবুজ-গোলাপি।এমন নয়নাভিরাম ঝলকানিতে মুগ্ধ উপজেলাবাসী।জানা গেছে,শহর সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে তৎকালীন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরীর উদ্যোগে,২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির(এডিপি’র )অর্থায়নে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফোয়ারাটি নিমার্ণ করা হয়।নির্মাণের পর পরিক্ষামূলক ২/১দিন পানি প্রবাহিত হলেও সে অবধি থেকে এযাবৎ কাল ওই ফোয়ারা দিয়ে প্রবাহিত হয়নি কোন পানির ঝর্না ধারা।প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ফোয়ারাটি ধুলো-বালুতে ঢাকা পড়ে বিবর্ন রঙ ধারণ করে।বিষয়টি জাপা’র সাবেক সংসদ সদস্য,আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর)আসনে লাঙ্গল প্রতীকের পদপ্রার্থী আহসান আদেলুর রহমান আদেলের নজরে এলে তার নিজস্ব অর্থায়নে নবরূপে চালু করেন।সরেজমিনে দেখা যায়,অযত্ন,অবহেলায় পড়ে থাকা ফোয়ারা চত্বর এখন হরেক রংয়ের পানির খেলা।আর বসার ব্যবস্থায় অবিভূত উপজেলা বাসি।দৃষ্টিনন্দন গোলাকার এ চত্বরের চারদিকে বসে বিশ্রাম,গালগল্প,আড্ডাসহ সময় কাটানোর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।যান্ত্রিক শহরে এমন নিরিবিলি আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সারাক্ষণ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উপচে পড়া ভিড়।দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই শুরু হয় ফোয়ারার সাদা-লাল-নীল-সবুজ-গোলাপিসহ হরেক রংয়ের পানির ঝলকানি।সন্ধা হলেই ফোয়ারার নবরূপ দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।অনেকেই এ রূপে সেলফি বন্ধি হয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন নেট দুনিয়ায়।তা চলে গভীর রাত অবধি।ফোয়ারা চালুর বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সরোওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু বলেন,প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর আমরা একটা নতুন দৃষ্টিনন্দন ঝর্না ধারা পেয়েছি।এখন সব শ্রেণি পেশার মানুষের বিনোদন, আড্ডার এক নতুন সংযোজন ফোয়ারা চত্বর।সব কিছু মিলে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন পরিবেশটা বেশ উপভোগ্য।এটা সচল করে দেয়ায় আদেল মহোদয় সত্যি প্রসংশার দাবিদার।দেরিতে হলেও এমন সুন্দর পরিবেশ উপহার দেয়ার জন্য আমরা তার প্রতি চির কৃতজ্ঞ।সফিকুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন,আগে ফোয়ারা চত্বরের চারপাশ ময়লা আবর্জনা আর পোষ্টারে ঢাকা পড়ে থাকতো।শহরে আসা লোকজন সেখানে মোটর সাইকেলসহ অন্যান্য বাহনও রাখতো।এখন আগের মতো নেই।সবকিছু একেবারেই নতুন করে সাজানো হয়েছে।চত্বরের পরিবেশটা এখন দারুন উপভোগ্য।সত্যিকার অর্থে তিনি প্রশংসার দাবিদার।এ ব্যাপারে আদেল বলেন,আগামিতে এমপি নির্বাচিত হলে শুধু ফোয়ারায় নয়,পুরো শহর এমন সুন্দর ও পরিকল্পিত সাজে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হবে।











মন্তব্য