এনামুল হক রাশেদী,কক্সবাজার থেকে >>> কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে সেন্টমার্টিনগামী একটি পর্যটকবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটির নাম ‘এমভি দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’। এ ঘটনায় জাহাজের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। তবে যাত্রার জন্য ঘাটে অপেক্ষমাণ ১৯৪ জন পর্যটক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন সি ক্রুজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো সেন্টমার্টিনগামী পর্যটক তুলতে সকাল ৭টার দিকে জাহাজটি নুনিয়াছড়া ঘাটে ভেড়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাৎ জাহাজের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।জানা যায়, এমভি দ্য আটলান্টিক ক্রুজ প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক পর্যটক পরিবহন করে থাকে। শনিবার সকালে যাত্রী ওঠানোর ঠিক আগ মুহূর্তে আগুন লাগায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান পর্যটকরা।কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আগুনে পুড়ে জাহাজের এক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। জাহাজে আরও কেউ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার মাত্র ১৫ মিনিট আগে আগুনের ঘটনা ঘটে। যদি যাত্রী ওঠার পর বা মাঝসমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটত, তবে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা। জেলা প্রশাসক বলেন, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে পর্যটকেরা রক্ষা পেয়েছেন। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।জাহাজ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে জাহাজটির পুরো অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার সময় জাহাজে কোনো পর্যটক ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট পর্যটকদের বিকল্প জাহাজে করে সেন্টমার্টিন পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটকদের জাহাজে ওঠা তদারকির জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘাট এলাকায় উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনা ঘটে। শোকরিয়ার বিষয় হলো—যাত্রী ওঠার আগেই আগুন লাগে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে











মন্তব্য